১০ মাস পর কবর থেকে শিশু নাঈমের লাশ তোলা, সিআইডি তদন্ত শুরু
১০ মাস পর কবর থেকে শিশু নাঈমের লাশ তোলা

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় আলোচিত দুই শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ১০ মাস পর কবর থেকে শিশু নাঈমের (৩) লাশ তোলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তত্ত্বাবধানে উপজেলার বিনোদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে শিশুটির লাশ তোলা হয়।

লাশ তোলার কার্যক্রম

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. রাশেদের উপস্থিতিতে সিআইডি, থানার পুলিশ ও মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে শিশুটির লাশ তোলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

পরিবারের অভিযোগ

শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের অভিযোগ, একটি কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার জেরে প্রতিশোধ নিতে শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবার জানায়, গত বছরের ১৬ জুলাই উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টয়লেটে এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন শিশু নাঈমের বড় ভাই নাহিদ ইসলাম। পরে ভিডিওটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী ও তার সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদের পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার জের ধরে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সকালে নাঈম ও তার প্রতিবেশী খেলার সাথি আরাফাতকে (৫) কৌশলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করে পাশের একটি পুকুরে লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ময়নাতদন্ত ও তদন্তের অগ্রগতি

নাঈমের পরিবারের অভিযোগ, লাশ উদ্ধারের পর নাঈমের গলায় আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া পানিতে ডুবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে শরীরে যে ধরনের আলামত থাকার কথা, তা পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ভেজা কাপড়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়। ঘটনার পর স্থানীয় থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পায়নি। পরে আদালতের দ্বারস্থ হলে একটি মামলা হয়। মামলাটি প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করলেও দীর্ঘ সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেন।

নাঈমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমরা গরিব মানুষ বলে কি আমাদের সন্তানের জীবনের কোনো মূল্য নাই? আমরা কি ন্যায়বিচার পাব না?’

গণমাধ্যমের ভূমিকা ও এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের নজরে আসে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুই শিশুর পরিবার ও এলাকাবাসী।