চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাজেট উপস্থাপন করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়।
উন্নয়ন ও বেতন খাতে বরাদ্দ
প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন-ভাতা ও পারিশ্রমিক খাতে। গত অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ২ হাজার ১৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
ঋণ কমেছে ২১৬ কোটি টাকা
নিজের মেয়াদে দ্বিতীয় বাজেট ঘোষণা করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর চসিকে ৫৯৬ কোটি টাকা দেনা নিয়ে আমি দায়িত্বগ্রহণ করেছি। বর্তমানে দেনার পরিমাণ কমে ৩৮০ কোটি টাকা হয়েছে। এই হিসেবে গত দেড় বছরে ২১৬ কোটি টাকা দেনা কমেছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতি মাসে জনপ্রতি ১ লাখ টাকা করে ৪২০ জনকে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা আনুতোষিক প্রদান করা হচ্ছে, যা চলমান থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “যত দ্রুত সম্ভব চসিকের দেনা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ,” বলেন মেয়র।
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা
প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ ৯৭৫ কোটি টাকা উন্নয়ন অনুদান খাতে আয় ধরা হয়েছে। এছাড়া হার কর ও অভিকর খাতে ৪২৬ কোটি টাকা এবং বকেয়া কর খাতে ১৯৭ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়র বলেন, “চসিককে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করাই আমার লক্ষ্য। অতীতে অযৌক্তিকভাবে যেসব গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলো যৌক্তিক করতে নিয়মিত রিভিউ বোর্ড বসানো হচ্ছে।”
তিনি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা স্পষ্ট করে বলেন, “বন্দর, রেলওয়ে, ৩৬টি কনটেইনার টার্মিনাল ও অয়েল কোং লিমিটেডসহ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তাদের নিকট প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে। কারণ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।”
চারটি কর্মপরিকল্পনা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মেয়র চারটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন: চলমান নিয়োগ কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা, দক্ষ জনবল গড়ার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ, বর্তমান কাজের পরিধি এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন ও অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ, এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমসহ চসিকের কার্যক্রমসমূহ ডিজিটালাইজেশন করার লক্ষ্যে এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ।
বাজেট অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।



