কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড়ে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ফেনীর চার তরুণকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে অপহরণকারীদের পাহাড়ি আস্তানা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
অপহৃতদের পরিচয়
উদ্ধারকৃতরা হলেন- ফেনী জেলার দাগনভূঞা থানার আব্দুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), মো. নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. এমাম হোসেন (১৮), পৌরসভার মো. সেলিমের ছেলে তহিদুল ইসলাম তামিম (১৯) ও হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)।
ঘটনার বিবরণ
গত ২৬ জুন রাতে ফেনী থেকে কক্সবাজার টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় বেড়াতে এসে হঠাৎ নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান এবং তহিদুল ইসলাম তামিম নামের দুই তরুণ। পরিবারের আবেদনে ২৮ জুন ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে র্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল তদন্ত শুরু করে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের পর র্যাব-১৫, সিপিসি-১ এবং টেকনাফ থানা পুলিশ একযোগে অপহরণকারীদের পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে চারজনকে উদ্ধার করে। অপহরণকারী চক্রটি তাদের গহীন পাহাড়ের আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল।
মুক্তিপণের দাবি ও নির্যাতন
অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। উদ্ধার না হলে যেকোনো সময় তাদের জীবনহানির আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের বক্তব্য
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কক্সবাজার র্যাব ১৫-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আমরা চারজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'



