জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম সরকারের উদ্দেশে কঠোর প্রশ্ন রেখেছেন। তিনি বলেন, 'ধরলাম, আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?'
বিএনপির জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি প্রসঙ্গে
গত ২২ জুন বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গেই আজহারুল ইসলাম এই প্রশ্ন তোলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন। দাবি করেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এই নেতাদের 'মিথ্যা মামলায় জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যা' করা হয়েছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে আজহার বলেন, 'এটি হলে আইনের শাসন কায়েম হবে।'
আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে
সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাইছে কি না, এই প্রশ্ন রেখে আজহারুল ইসলাম বলেন, 'আমি মনে করি, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ, চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে?'
তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে কেন বিএনপির এত পছন্দ এবং তাকে পদে রাখার জন্য কোনো দিক থেকে বিএনপি ইঙ্গিত পেয়েছে কি না। তিনি বলেন, 'ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে চাইলে সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে।'
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা
প্রস্তাবিত নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরকে দেওয়া হয়েছে তা উচ্চাভিলাষী। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সংস্কার ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সুদকে 'বড় পাপ' উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে এক লাখ ২৭ হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। ৯২ ভাগ মুসলিমের দেশে সুদের এই বোঝা মেনে নেওয়া যায় না। সুদমুক্ত অর্থনীতি চালু করতে সরকার সুকুক (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে। ২০২০ সাল থেকে চালু হওয়া সুকুক বন্ডকে আরও জনপ্রিয় করলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা ও কালো টাকা সাদা করার সমালোচনা
ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপি আজহার বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক ও পিকে হালদারের লুটপাটে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এর ওপর আবার ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সৎ করদাতাদের জন্য অপমানজনক এবং সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। তিনি এই সুযোগ বাতিলের দাবি জানান।



