বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেসরকারি বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট কাটাতে স্থল ও সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
সংসদে বাজেট আলোচনায় মন্ত্রীর বক্তব্য
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারির ওপর শুল্ক অব্যাহতি এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর-ছুটির (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি বায়ু ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে।
গ্যাস ও তেলভিত্তিক কেন্দ্র স্ট্যান্ডবাই রাখার পরিকল্পনা
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্যাস ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্ট্যান্ডবাই সক্ষমতা হিসেবে চালু রাখতে হবে। কারণ আবহাওয়া ও মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে সৌরবিদ্যুৎ সবসময় সমানভাবে পাওয়া যায় না। মন্ত্রী আরও জানান, গ্যাস সংকট নিরসনে স্থল ও সমুদ্রে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং নভেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শুল্ক অব্যাহতি ও কর-ছুটি। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব পদক্ষেপের ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সৌর, বায়ু ও বর্জ্য-ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।



