ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাধারণত তেলের দাম বাড়ায়, কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালিতে একটি কার্গো জাহাজে হামলা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহ হবে এমন ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে।
তেলের দাম কমেছে কত?
যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের ব্যারেলপ্রতি দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৬৯ দশমিক ২৮ ডলারে নেমেছে, যা ৭০ ডলারের নিচে। ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৫৭ ডলার হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির ভূমিকা
হরমুজ প্রণালি তেল সরবরাহের কৌশলগত পথ। এ পথ দিয়ে বেশিসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। ফলে ওমান উপসাগরে জাহাজ হামলা সত্ত্বেও বাজারে প্রভাব পড়েনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এভার লাভলি’ নামে একটি কার্গো জাহাজে মিসাইল হামলা হয়। জাহাজটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এমএস নাউকে জানিয়েছেন, হামলার পেছনে ইরান জড়িত।
বিনিয়োগকারীদের নজর মধ্যপ্রাচ্যে
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর বিনিয়োগকারীরা নিবিড় নজর রাখছেন। তারা মূল্যায়ন করছেন সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন কমানো সম্ভব কি না। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এমএস নাউকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ হামলায় ইরান জড়িত।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জাহাজটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বলেছে, হামলায় কোনো হতাহত বা পরিবেশের ক্ষতি হয়নি।
আইএমওর বক্তব্য
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, ‘আইএমওর সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার আওতায় ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের সরিয়ে নেওয়ার তালিকায় থাকা জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে থাকা সব জাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বহাল আছে কি না, তা আবার নিশ্চিত করতে আমি পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করলেও দুই দেশের মতবিরোধ অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা রয়ে গেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে ইরানের অবমুক্ত করা সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কিনতে ব্যবহার করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, অবমুক্ত করা যেকোনো অর্থই যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের আওতায় থাকবে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যেমন ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা হলে তা ইরানের জনগণের খাদ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনায় ব্যবহার করা হবে।’
বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন
নেশনস ইনডেক্সেসের প্রেসিডেন্ট স্কট নেশনস সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স এশিয়া’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘চুক্তিটি নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা অতিরিক্ত আশাবাদী হয়ে পড়ছি। কারণ, বাস্তবে এখনো কোনো বিষয়ই চূড়ান্তভাবে সমাধান হয়নি। আর ইরান জানে, তারা যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চায়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিজেদের ইচ্ছেমতো চাপে রাখতে পারবে।’
ওপেক পরিস্থিতি
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গত মে মাসে ওপেক ছেড়ে যাওয়ার পর জোটটি এখন তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক দেশের সম্ভাব্য প্রস্থানের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক ওপেকের কাছে বেশি উৎপাদন কোটার দাবি জানিয়েছে। সেই দাবি না মানা হলে দেশটি জোট ছাড়তে পারে বলেও ওপেককে হুমকি দিয়েছে ইরান।



