জাতীয় সংসদে একদিনে ৩১টি বিল পাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মোট ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এই বিলগুলোর মধ্যে ২৮টি বিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো অবিকল রেখে পাস করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি বিল অধ্যাদেশ রহিত করে পাস হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন, যা সংসদে গৃহীত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ অবিকল রেখে পাস হওয়া বিল
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ অবিকল রেখে পাস হওয়া উল্লেখযোগ্য বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন বিল, ২০২৬’
- ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল, ২০২৬’
- ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিল, ২০২৬’
- ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন বিল, ২০২৬’
- ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’
- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) বিল-২০২৬’
- ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কতৃপক্ষ বিল ২০২৬’
- ‘রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ বিল-২০২৬’
- ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’
- ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিল-২০২৬’
- ‘বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন এমেনমেন্ট বিল-২০২৬’
- ‘নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (সংশোধন) বিল ২০২৬’
এই বিলগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশোধন ও উন্নয়ন নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অধ্যাদেশ রহিত করে পাস হওয়া বিল
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ অবিকল না রেখে পাস করা বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে পাস করা ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’।
- ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে পাস করা ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’।
এছাড়া, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ রহিত করে ২০০৯ সালের ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ পুনঃপ্রচলন করে আনা ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। এই বিল মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংসদীয় অধিবেশনের গুরুত্ব
এই বিল পাসের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তন এনেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে অবিকল রেখে বিল পাস করা হয়েছে, যা সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করা হয়েছে, যা আইনি কাঠামো আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। এই অধিবেশনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।



