বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে রুমিন ফারহানার সংসদ বক্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপিকে দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মনোনয়ন না পাওয়ায় জনসমর্থন উপলব্ধি
রুমিন ফারহানা বলেন, 'আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার কারণেই আমি বুঝতে পেরেছি, বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কত লাখ মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমার পাশে ছিল।' তিনি উল্লেখ করেন, দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে এই অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব হতো না।
তিনি প্রয়াত খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, 'দেশনেত্রী যিনি আমাকে স্নেহ দিয়ে রাজনীতিতে এনেছিলেন, তাঁর অপূর্ণতা এই সংসদে কোনো দিন পূরণ হবে না।' নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'অসংখ্য নেতা-কর্মী বঞ্চিত হয়ে, ভয়ভীতির মধ্যে থেকে আমার নির্বাচন করেছে।'
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দলীয় নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে রুমিন ফারহানা প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, 'এবারও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদিত ভাষণ দিতে হয়েছে। এতটুকু স্বাধীনতা আমরা রাষ্ট্রপতিকে দিতে পারিনি, তাহলে আমরা কোন ভারসাম্যের কথা বলছি?' তিনি বিএনপির ভিশন ২০৩০ ও ৩১ দফায় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অভিজ্ঞ লোকজন নিয়োগ পেলেও বাংলাদেশে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নিয়োগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
নারীদের অবস্থান ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
রুমিন ফারহানা নারীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'এই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন নারীরা, কিন্তু এক বছর পার না হতেই তারা হারিয়ে গেলেন কেন?' তিনি সংসদে সাতজন নারী সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রাখেন।
অর্থনৈতিক ইস্যুতে তিনি বলেন:
- উচ্চ খাদ্যমূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বব্যাংকের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় বাংলাদেশের নাম এসেছে।
- তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
- গত ১৫ বছরে ২৩,৪০০ কোটি ডলার টাকা পাচার হয়েছে, যা ফেরত আনা জরুরি।
তিনি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর জোর দেন।
সংসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন
রুমিন ফারহানা হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, 'এই মানুষগুলো ছিল দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ, যারা নতুন বাংলাদেশ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিল।' তিনি গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বায়বীয় নয় বলে উল্লেখ করেন এবং সবাইকে নিয়ে সবার বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান।



