দিল্লির হোটেলে আগুনে একই পরিবারের আটজনের মৃত্যু
দিল্লির হোটেলে আগুনে এক পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যু

ভারতের দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় ‘ফ্লোরিশ স্টে বি’ নামে একটি আবাসিক হোটেল ভবনে গতকাল বুধবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা কীভাবে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন?

রাজধানী দিল্লির উপকণ্ঠে গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬-এর বাসিন্দা ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক আগরওয়াল দিল্লিতে চিকিৎসাধীন তাঁর বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর বাবা বর্তমানে দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি। বিবেকের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী তর্জনী আগরওয়াল, দুই মেয়ে জিভিশা ও ভার্যা এবং আরও চারজন আত্মীয় গিয়েছিলেন।

হোটেলে অবস্থান ও অগ্নিকাণ্ডের সময়কার ঘটনা

গতকাল অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লোরিশ স্টে বি-তে বিবেক দুটি রুম নিয়েছিলেন। আগুন লাগার সময় পুরো পরিবারটি হোটেলের রেস্তোরাঁয় সকালের নাশতা করছিল। আগুনে আটজনেরই মৃত্যু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য

পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যুর পর এই নিকট আত্মীয়দের মধ্যে এখন একমাত্র জীবিত সদস্য হলেন বিবেকের ৮০ বছর বয়সী বাবা রাধে শ্যাম আগরওয়াল।

মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া

মরদেহ নেওয়ার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা গতকাল বিকেলের দিকে হাসপাতালে যান। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পরই কেবল মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে।

শোকের ছায়া ও পরিবারের খালি বাড়ি

গুরুগ্রামে সেক্টর ৪৬-এ এই পরিবারের বাড়িটি গতকাল সম্পূর্ণ খালি পড়ে ছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দিল্লির ওই হোটেলে আগুনে মোট ২১ জনের মৃত্যু

দিল্লির ওই হোটেল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন লাগে এবং তা দ্রুত পাঁচতলা সরু ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১২ জন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ভবনে প্রায় ৪০ জন অতিথি ছিলেন বলে জানা গেছে, যাঁদের বেশির ভাগই তখন ঘুমাচ্ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটিতে যাতায়াতের জন্য কেবল একটি পথ ছিল। জানালাগুলো স্থায়ীভাবে সিল করা ছিল। প্রধান দরজাটি ছিল সেন্সর–চালিত। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর অতিথিদের বাইরে বের হওয়ার পথ খুব সীমিত হয়ে পড়ে।

লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন

হোটেলটিকে দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমের আওতায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, যা একটি ভবনে সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ পরিচালনা করার অনুমতি দেয়। তবে এনডিটিভির সূত্র অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় ফ্লোরিশ স্টে বি হোটেলটি বেজমেন্টসহ মোট ২৫টি রুম পরিচালনা করছিল।