হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন, আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরণ
হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার শিরীন শারমিন, কারাগারে প্রেরণ

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন, আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরণ

জুলাই অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশ থাকার পর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে বিচারক রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার ও আদালত কার্যক্রম

গোয়েন্দা পুলিশ আজ ভোরে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে ৬০ বছর বয়সী শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে প্রথমে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, এরপর লালবাগ থানায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুপুরে তাঁকে মাইক্রোবাসে করে পুরান ঢাকার আদালতে নিয়ে আসা হয়, যেখানে নীল শাড়ি পরিহিত শিরীন শারমিনকে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ঘিরে রাখেন।

বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে হাজতখানায় নেওয়া হয় এবং ৩টা ১৫ মিনিটে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে তোলা হয়। আদালতকক্ষ আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন, যুক্তি দেন যে শিরীন শারমিন 'ফ্যাসিস্টের সহযোগী' ছিলেন এবং ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রায় ও উত্তেজনা

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিনের জন্য আবেদন করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে মামলায় শিরীন শারমিনের নাম ছাড়া অন্য কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং মামলাটি ঘটনার ১০ মাস ৭ দিন পর দায়ের করা হয়েছে। তাঁরা আরও বলেন, শিরীন শারমিন সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি নিজেই পদত্যাগ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর ৩টা ২০ মিনিটে তাঁকে হাজতখানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। আদালত থেকে বেরোনোর সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের স্লোগানের উত্তরে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়, এবং ভিড়ের মধ্যে শিরীন শারমিন সিঁড়িতে পড়ে যান, যদিও পুলিশ দাবি করেন তিনি শুধু পা বেঁকে যান।

পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে অনেক নেতা গ্রেপ্তার হন, কিন্তু শিরীন শারমিনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন, তবে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

এই গ্রেপ্তার ও আদালত কার্যক্রম রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে আইনজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।