জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ থেকে ৮টি বিল পাশ, গুম অন্তর্ভুক্ত
সংসদে ৮ বিল পাশ, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর

জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ থেকে ৮টি বিল পাশ

আজ ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে মোট ৮টি বিল পাশ হয়েছে। এই বিলগুলো পানি সম্পদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, যিনি কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেন।

বিল পাশের প্রক্রিয়া ও বিশেষ কমিটির ভূমিকা

বিলগুলোর ওপর ধারা অনুযায়ী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার প্রয়োজন পড়েনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সরাসরি সেগুলো পাশ হয়। এটি একটি দ্রুত ও কার্যকর প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা আইন প্রণয়নের গতি বাড়িয়েছে।

অন্তর্বর্তী সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার সুপারিশ করা হয়। আজ পাশ হওয়া বিলগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটি এগুলোকে অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করেছিল, যা সংসদে গৃহীত হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পানি সম্পদ ও আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিল

পাশ হওয়া বিলগুলোর মধ্যে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন এবং তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এই বিলটি দেশের জলাভূমি ও হাওর সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাশের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিলগুলো পৃথকভাবে কণ্ঠভোটে পাশ হয়, যা আইনী কাঠামোকে আধুনিকীকরণের দিকে একটি পদক্ষেপ।

গুম বিচার সংক্রান্ত আইনমন্ত্রীর বক্তব্য

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুম (বাধ্যতামূলক নিখোঁজ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গুমের বিচার করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই আইন তার প্রতিফলন।

আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, গুমের বিচার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তাই বিলটি উপস্থাপনের আগে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে, যা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিল

পরে স্পিকার অন্যান্য বিল পাশের কার্যক্রম শুরু করেন, যার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত আরও কয়েকটি বিল অন্তর্ভুক্ত ছিল। মূলত নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদনের লক্ষ্যে এসব বিল আনা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। এছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল’ সংসদে উপস্থাপন করা হয়, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এই বিলটি মেডিকেল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনটি এই বিল পাশের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক সৃষ্টি করেছে, যা দেশের আইনী কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।