জাতীয় সংসদে নয়টি বিল পাস, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর
জাতীয় সংসদে আজ মঙ্গলবার সকালে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এই বিলগুলোর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনি কাঠামোতে রূপ দেওয়া হয়েছে। বিলগুলোতে কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায়, সংসদে আলোচনা ছাড়াই সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।
বিল পাসের প্রক্রিয়া ও বিশেষ কমিটির সুপারিশ
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।
আজ পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রস্তাব করেন, যা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাসের প্রস্তাব করেন।
আইনমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বিতর্ক
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল–সংক্রান্ত বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “এটি এমন একটি বিল, যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাঁরা বলছেন, সরকার গুমের আইন করতে চাইছে, তাঁদের আমি এ আইন ভালো করে দেখার পরামর্শ দিই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর, যা এই আইনে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিলটি পাস হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনাহূত ছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের বাইরে অনেকে গুমের বিচারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাই তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বাইরে কতজন কত কথা বলে! আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে আইনবিধি অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাস্যরস ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিল
পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত, যা মূলত মেডিক্যাল কলেজের নাম পরিবর্তনের জন্য সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনপুস্থিতিতে তাঁর তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এই বিলগুলো হলো—ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন কিছুটা হেসে বলেন, “খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।” এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেককে হাসতেও দেখা যায়।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন, যা কণ্ঠভোটে পাস হয়।



