সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, সময়সীমা শেষ: বিরোধীদলীয় নেতা
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, সময় শেষ

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে সময়সীমা অতিক্রম: বিরোধীদলীয় নেতার তীব্র অভিযোগ

জাতীয় সংসদে রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জারি করা প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের ৩০ দিনের সময়সীমা আজই শেষ হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই অধিবেশন ডাকা হয়নি বলে তিনি সংসদে জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশের বিধান ও বাস্তবায়নহীনতা

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। এই অর্ডারের ১৫টি নির্দেশিকার মধ্যে ৩ থেকে ১৫ নম্বর বিষয়গুলো ‘জুলাই সনদ’ এবং গণভোটের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বিশেষভাবে ১০ নম্বর নির্দেশিকার উল্লেখ করেছেন, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

  • সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন যেভাবে আহ্বান করা হবে
  • ঠিক একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করতে হবে

“আমার কনসার্নের বিষয়টা এখানেই। আজকে ৩০তম পঞ্জিকা দিবস, কিন্তু এর মধ্যে এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি,” বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ ও আহ্বান পদ্ধতি

তিনি সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেছেন, এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন। “আমরা ধরে নিচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতি সংসদের এই সভা আহ্বান করেছেন। অর্ডারে পরিষ্কার বলা আছে, যে পদ্ধতিতে সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকা হবে, একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভাও ডাকতে হবে,” বলেছেন তিনি।

গণভোটের ফল ও পরিষদ গঠনের শর্ত

গণভোটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আদেশের বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আদেশে বলা ছিল, সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে, যা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। মাননীয় স্পিকার, এটি হয়নি এবং এর সময়সীমা আজকে শেষ।”

সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা ও শপথ গ্রহণ

সংসদ সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। “আমরা এই সুযোগ পেতে চাই,” বলেছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আদেশের তফসিল অনুযায়ী, ৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর একই অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে স্বাক্ষর দান করেছেন।

সংস্কারের সময়সীমা ও কার্যক্রম

সংবিধান সংস্কারের সময়সীমা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

“কিন্তু কাজ তো আগে শুরু হতে হবে, তারপর সমাপ্ত!” বলেছেন তিনি। পরিষদের কর্মধারায় অংশগ্রহণের সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ দুইটা ক্যাপাসিটিতে (পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য) কাজ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

অবিলম্বে পদক্ষেপের আহ্বান

শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অবিলম্বে প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণেই তিনি এই বিষয়টি মহান সংসদে উত্থাপন করছেন বলে জানিয়েছেন।