আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। এই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলাটির বিচার শুরুর পথ উন্মুক্ত হলো।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। বেঞ্চের নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার। শুনানির শুরুতেই ট্রাইব্যুনাল আসামীদের পক্ষ থেকে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর বিচারপতি মোহিতুল হক মামলার তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আসামীদের জিজ্ঞাসা করেন তারা দোষ স্বীকার করতে চান কিনা।
আসামীদের বক্তব্য
রাশেদ খান মেনন ট্রাইব্যুনালকে বলেন, 'আমি নির্দোষ। আমি ন্যায়বিচার চাই।' অন্যদিকে কামরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো 'মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' এবং তিনিও ন্যায়বিচার চান। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের পর আগামী ৯ জুন প্রাথমিক বক্তব্যের জন্য দিন নির্ধারণ করে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য
প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, আব্দুস সাত্তার পলোয়ান ও মঈনুল করিম প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, কামরুল ও মেনন তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে নানা পদক্ষেপে উসকানি দেন, যার মধ্যে নিরস্ত্র শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ এবং কারফিউ জারিকে উৎসাহিত করা অন্তর্ভুক্ত।
প্রসিকিউশন আরও অভিযোগ করে যে, তাদের কর্মকাণ্ড রাজধানীর বাড্ডা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর ঘটনায় অবদান রাখে, যাতে ২৩ জন নিহত হন।



