প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামীর শিক্ষা ব্যবস্থায় পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা ব্যবস্থার কারিকুলাম আমরা এমনভাবে পরিবর্তন করছি, যেখানে পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সংস্কৃতি এবং ক্রীড়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আমরা পুরো এডুকেশন সিস্টেমে নিয়ে আসতে চাইছি।’
প্রযুক্তিগত ও পেশাগত শিক্ষা বাধ্যতামূলক
মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী টেকনিক্যাল এবং প্রফেশনাল এডুকেশনকে শিক্ষা ব্যবস্থায় বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি বলেন, ‘ক্লাস সিক্স (ষষ্ঠ শ্রেণি) থেকে সেটা আমরা করছি। প্রাথমিকভাবে থিওরিটিক্যাল এবং তার পরবর্তীতে প্র্যাক্টিক্যালি সেটা যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তৃতীয় ভাষা আমরা ধারাবাহিকভাবে শুরু করতে যাচ্ছি।’
শিক্ষা ব্যবস্থাকে ৩৬০ ডিগ্রি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ওভারঅল শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা ৩৬০ ডিগ্রি একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখি, যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য যার যেই সাবজেক্টে পড়তে ভালো লাগে, সেখানে যেন রাষ্ট্র তাকে বিকশিত হওয়ার সে সুযোগটুকু তৈরি করে দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আরও বিশ্বাস করেন- একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শিক্ষার্থীর সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে সেভাবেই গড়ে তোলা, যেখানে তার ভবিষ্যৎ যেন বাংলাদেশের জন্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।’
নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সমন্বয়
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে নৈতিক শিক্ষা থাকবে, পারিবারিক শিক্ষা থাকবে, সামাজিক মূল্যবোধ থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কর্মদক্ষ হয়ে ওঠার জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন, সেটি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে হতে পারে, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে হতে পারে, দেশে বা বিদেশে চাকরি প্রাপ্তির জন্য হতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, এ সবকিছু ধারাবাহিকভাবে শিক্ষাকার্যক্রমে শুরু হবে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
কারিকুলাম পরিবর্তনের সময়সীমা
সরকার গঠনের পর মাত্র সাড়ে চার মাস হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘এর মধ্যে দৃশ্যমান বড় ধরনের কারিকুলাম পরিবর্তন সম্ভব না। আগামী শিক্ষাবর্ষে বই ছাপানোর জন্য আমাদের হাতে সময় খুব সীমিত। তবে তার পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ইনশাআল্লাহ আমরা শুরু করবো।’
এইচএসসি পরীক্ষা ও শুভকামনা
আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ‘এই পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে, আমরা সর্বোচ্চ শুভকামনা এবং আন্তরিকতা জানাচ্ছি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।’
পরীক্ষার পরিবেশ ও নকল প্রতিরোধ
মাহদী আমিন বলেন, ‘পুলিশ, প্রশাসন এবং এই পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা আছেন তাদের প্রত্যেকের প্রতি সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা থাকবে, যেন সুন্দর, স্বতঃস্ফূর্ত এবং আন্তরিকতাপূর্ণ একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন ভীতি বা চাপে না থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্র আমরা দেখেছি, সেখানে নকল এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে অভিযোগ ছিল সেটা ভেঙে দিতে পেরেছি। এ পরীক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকবে, কোনো নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা যেকোনো অনিয়ম থেকে আমরা বেরিয়ে এসে এক সুন্দর ন্যায়সঙ্গত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।’
ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ও আহ্বান
মাহদী আমিন জানান, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি, যা ছাত্রদের তুলনায় বেশি। তিনি ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সুন্দরভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।



