এনসিপির তীব্র আহ্বান: সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করুন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংসদ সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় যুবশক্তির ইফতার মাহফিলে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সংসদ সদস্যদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—আপনারা যদি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা না চান, তাহলে ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই অভিশংসন করবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় এনসিপির সংসদ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী যাত্রা শুরু করতে হবে।
নতুন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ
এনসিপির মুখপাত্র অভিযোগ করেন যে, নতুন সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করেছে। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “কোটি কোটি ভোটারের সঙ্গে কোনো প্রকার প্রতারণা করা যাবে না।” এই ইফতার মাহফিলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর আমীর মাওলানা মামুনুল হক উপস্থিত ছিলেন। নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “এনসিপিকে সংসদের বাইরে রাজপথে সক্রিয় থাকতে হবে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে, তারপর অন্যান্য বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সকল অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন করতে হবে এবং সংসদকে অবিলম্বে সংস্কার পরিষদ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি, তিনি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অর্থনীতি ও রাজনীতির সমালোচনা
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “যারা আজ বলছে ওয়াসিম আমাদের শহীদ, কিন্তু সংস্কারের বিরোধিতা করে যাচ্ছে—এটা শহীদের রক্তের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হচ্ছে এবং অর্থনীতির এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন ব্যবসায়ীকে দায়িত্বে বসানো হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্যদিকে, মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে মন্তব্য করেন, “জুলাই বিপ্লবের বড় বেনিফিশিয়ারি বিএনপি, কিন্তু তারা গাদ্দারি করেছে।” এই সমস্ত বক্তব্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সংবিধান সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত নেতারা একযোগে দাবি করেন যে, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এবং সংবিধান সংস্কার ছাড়া দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তারা সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যাসিবাদী tendencies এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
