ছাত্রদল সভাপতির দৌড়ানো নিয়ে সারজিস আলমের মন্তব্য: 'দুঃখজনক, সম্মানজনক নয়'
ছাত্রদল সভাপতির দৌড়ানো নিয়ে সারজিস আলমের মন্তব্য

ছাত্রদল সভাপতির দৌড়ানো নিয়ে সংসদ সদস্য সারজিস আলমের তীব্র প্রতিক্রিয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য সারজিস আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ির পেছনে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের দৌড়ানোর ঘটনাকে দুঃখজনক ও সম্মানজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিমত প্রকাশ করেন।

ঘটনার পুনর্বিবরণ ও বিশ্লেষণ

সারজিস আলম উল্লেখ করেন, অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতির সময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে তার গাড়ির পেছনে দৌড়াতে দেখা যায়। যদিও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রোটোকল রক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করাই ছিল রাকিবের উদ্দেশ্য, তবুও সারজিস আলম এই দৃশ্যকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, "তার নেতৃত্বে লাখ লাখ ছাত্র রয়েছে। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে এ ধরনের আচরণ সম্মানজনক নয়। এমন দৃশ্য আওয়ামী লীগের সময়েও দেখিনি।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ছাত্ররাজনীতির বর্তমান সংস্কৃতির প্রতি তীব্র সমালোচনা জানিয়েছেন।

ছাত্ররাজনীতিতে নতুন মানদণ্ডের আহ্বান

সারজিস আলম ছাত্রদলসহ সকল ছাত্র সংগঠনের উদ্দেশে জোরালো আহ্বান জানান, ছাত্ররাজনীতিতে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। তার মতে, এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যা বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও যোগ করেন, দেশে নতুন করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন দল নিজেদের কর্মকাণ্ডে আগের সরকারের চেয়েও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের পরিবর্তে ‘অভিনয় প্রতিযোগিতা’ চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

দুর্নীতি ও সমঝোতা রাজনীতির সমালোচনা

অনুষ্ঠানে সারজিস আলম দেশে সমঝোতার রাজনীতি শুরু হওয়া এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তির ঘটনাকেও কঠোর ভাষায় নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে ছাত্রশক্তিকে সংগঠিত হওয়ার এখনই সময়। তার মতে, ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে সুস্থ ও গতিশীল রাখতে।

সারজিস আলমের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই ধরনের প্রকাশ্য সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।