নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: দুলু
নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন

নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা ত্রাণমন্ত্রীর

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সময় যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়েই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, 'জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব, তবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া বিষয়গুলো বাদে। এটা পরিষ্কার হিসাব। বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।'

রোববার (১০ মে) বিকালে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ দেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তবে আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং ভিন্ন মতকেই গণতন্ত্র হিসেবে মনে করি। কিন্তু ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা নই।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা বলি সবার আগে বাংলাদেশ। মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছেন, সেটি যথাযথভাবে পালন করতে চাই।' তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, যে দল জনগণের রায় পেয়ে সরকার গঠন করবে তারা নোট অব ডিসেন্টসহ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এখন বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট বাদ দেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মতবিনিময় সভায় ত্রাণমন্ত্রী কুড়িগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, 'কুড়িগ্রামকে এখনো পশ্চাৎপদ জেলা হিসেবে দেখা হয়। এই জেলাকে উন্নত জেলার কাতারে নিতে জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম—উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকেরা সঠিকভাবে সমালোচনা করলে জনপ্রতিনিধিরা সঠিক পথে থাকেন। এতে দেশ ও জনপদের উন্নয়ন হয়।' তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকতার মান যেমন বাড়ে, তেমনি এলাকার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, একটি তিস্তা নদীর কারণে একটি জনপদ কীভাবে পশ্চাৎপদ হয়ে পড়েছে, রংপুর বিভাগ তার উদাহরণ। অথচ নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে ওঠার কথা ছিল।

কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকারের সঞ্চালনায় সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম বেবু, অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

এর আগে রোববার সকালে লালমনিরহাটের বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামে পৌঁছান ত্রাণমন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান নালিয়ারদোলা এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ত্রাণমন্ত্রী।