সংসদে সুস্থ রাজনীতির সুবাস ছড়াবেন নুসরাত তাবাসসুম
সংসদে সুস্থ রাজনীতির সুবাস ছড়াবেন নুসরাত

নুসরাত তাবাসসুম। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক। সম্প্রতি সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেন, ৬ প্রধান সমন্বয়কের মধ্যে তিনি একজন। ওই বছরের ২৮ জুলাই পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাকে আটক করে। মূলত সেই ধারাবাহিকতা থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে তার উত্থান।

সংসদে ভূমিকা ও পরিকল্পনা

সংসদের ভেতরে ও বাইরে আগামীর রাজনীতিতে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে চান— এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (৯ মে) বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন তার অনুভূতি ও পরিকল্পনার কথা। বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংসদে অর্থবহ ভূমিকা রাখতে চান। এছাড়া রাজনীতিতে সহনশীলতা, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, নারীর সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা এবং প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে কাজ করতে চান নুসরাত। বলেন, সংসদে সুস্থ ধারার রাজনীতির সুবাস ছড়াতে চাই।

শপথ নেওয়ার অনুভূতি

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই এই পর্যায়ে আসতে পেরে আপনার অনুভূতি কী, জানতে চাইলে নুসরাত তাবাসসুম বলেন, “আইনি জটিলতায় শপথ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। কিছুটা মন খারাপ হলেও হাল ছাড়িনি। কারণ বিশ্বাস ছিল, শেষ পর্যন্ত আমার মনোনয়ন টিকে যাবে। এত কষ্টের পর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরে ভালো লাগছে। এ ক্ষেত্রে পাশে থেকে সহযোগিতা করায় আমার দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকেও (এনসিপি) ধন্যবাদ জানাই।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গ

নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় এনসিপি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান। এখন আবার সেই জোটের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে যাচ্ছেন— আপনার সে সময়ের অবস্থান নিয়ে এখন কী বলবেন, প্রশ্নে এই সংসদ সদস্য বলেন, “তখন জোট গঠন নিয়ে দলের হাইকমান্ডের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে ১৫ দিন নিষ্ক্রিয় ছিলাম। পরবর্তী সময়ে দলের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়ে নির্বাচনের আগেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করি। এখন যেহেতু জোটে আছি, সেক্ষেত্রে জোট নিয়ে দলের অবস্থানকেও সম্মান জানাতে হবে।”

তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা

অতীতে সংসদে কতিপয় নারী এমপির আচরণ নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠেছে। এবার তারুণ্যের প্রতিনিধি হিসেবে কীভাবে ভূমিকা রাখতে চান— এমনটি জানতে চাইলে নুসরাত বলেন, “জুলাইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বত্রই সহনশীলতার রাজনীতি চাই, যেখানে থাকবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। সমালোচনা হবে গঠনমূলক। সেখানে আমরা সুস্থ ধারার রাজনীতির সুবাস ছড়াবো। শুধু তাই নয়, রাজপথেও আমরা হিংসাত্মক মনোভাবের বিপরীতে উদারতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কারণ মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল— গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সেই পথেই হাঁটতে চাই।”

নারীর প্রতি বার্তা

নারী সমাজের প্রতি কী ধরনের বার্তা দিতে চান, এমন প্রশ্নে এনসিপির এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, “সমাজে নানাভাবেই নারী অবমাননার ঘটনা ঘটে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। আমি মনে করি, নারীরা নিজেদের অবস্থান তৈরিতে আরও মনোযোগী হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

শপথ গ্রহণের পটভূমি

গত ৬ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে শপথ নেন জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। প্রথমে এনসিপি থেকে এ পদের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয় দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনকে। তবে আইনি জটিলতা তার মনোনয়ন প্রথমে স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। কারণ সরকারি চাকরির মেয়াদ তিন বছর অতিক্রম না হওয়ায় আইনি জটিলতায় এমনটি ঘটে। এই অনিশ্চয়তার কারণে নুসরাতকেও মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়।

গত ২১ এপ্রিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল। কিন্তু ৪টা ১৯ মিনিটে নুসরাত মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিলম্ব দেখিয়ে ইসি তার মনোনয়নপত্রও গ্রহণ করেনি। এর মধ্যে ৩ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন নবনির্বাচিত এমপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নুসরাতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেন এবং আদালত তার পক্ষে রায় দেন।