পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে একযোগে দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। রাজধানী বামাকোর উপকণ্ঠ থেকে শুরু করে উত্তরের যুদ্ধকবলিত এলাকা পর্যন্ত এই হামলা ছড়িয়ে পড়েছে।
পাঁচটি লক্ষ্যবস্তুতে সমন্বিত হামলা
মালির সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (৪ জুন) রাজধানী সংলগ্ন একটি প্রধান কারাগার এবং রুশ যোদ্ধাদের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। মাত্র দুই মাস আগেই দেশটির রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহীদের বড় ধরনের হামলার পর আবারও এই ভয়াবহ সমন্বিত আক্রমণের ঘটনা ঘটল।
মালির সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে একযোগে আগুয়েলহোক, আনেফিস, গাও, সেভারে এবং কেনিয়েরোবা নামক এলাকায় হামলা শুরু হয়। নিরাপত্তা সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ৭৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কেনিয়েরোবার একটি বিশাল কারাগার কমপ্লেক্সের ওপর বিদ্রোহীরা চড়াও হয়।
সেভারে ও গাওতে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি
অন্যদিকে, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর সেভারেতে ভোরের আলো ফোটার আগেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং এর পরপরই আকাশে বেশ কিছু সামরিক বিমান উড়তে দেখা যায়। গাও শহরের একটি সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করেও ভোর থেকে অবিরাম গুলি ও রকেট বর্ষণ করা হয়েছে।
আনেফিসে যৌথ ঘাঁটিতে হামলা, দায় স্বীকার
দেশটির উত্তরাঞ্চলের কিদাল অঞ্চলের আনেফিস শহরে সরকারি বাহিনী এবং রুশ যোদ্ধাদের একটি যৌথ ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে সোয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট’। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র মোহাম্মদ এলমাউলৌদ রামাদানে জানিয়েছেন, তাদের যোদ্ধারা আনেফিস শহরের বেশ কয়েকটি অবস্থান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং শহরের ভেতরে এখনো তীব্র লড়াই চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা শহরে প্রবেশ করলেও সরকারি বাহিনী এখনো প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছে এবং মূল সামরিক ক্যাম্পটি এখনো পুরোপুরি বিদ্রোহীদের দখলে যায়নি।
কৌশলগত গুরুত্ব ও পূর্ববর্তী ঘটনা
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আনেফিস এবং আগুয়েলহোক শহর দুটি বর্তমানে কিদাল অঞ্চলে মালির সেনাবাহিনীর শেষ শক্তিশালী অবস্থান হিসেবে পরিচিত। এর আগে গত এপ্রিলের শেষভাগে এফএলএ এবং আল-কায়েদার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠী যৌথভাবে কিদাল শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সরকারি ও রুশ সেনারা এই আনেফিস শহরে পিছু হটে অবস্থান নিয়েছিল। দীর্ঘ বছর ধরে মালির উত্তর অংশে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে লড়াই করে আসছে এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। পাশাপাশি দেশটিতে আল-কায়েদা ও আইএসআইএল (আইসিস) সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাও প্রবল।
সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য
মালির সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এই নতুন হামলা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করল। চলতি বছরের এপ্রিলেই বিদ্রোহীরা রাজধানী বামাকোর বিমানবন্দরে হাই-প্রোফাইল হামলা চালিয়েছিল, যেখানে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হন এবং উত্তরের বেশ কয়েকটি সেনা ঘাঁটি বিদ্রোহীদের দখলে চলে যায়। সর্বশেষ এই সমন্বিত হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এখনো তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলছে। সূত্র: আল-জাজিরা।



