ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে শনিবার (৪ জুন) লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছেন। তাদের কণ্ঠে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আগুন দেখা গেছে।
জানাজায় জনতার আবেগ ও ক্ষোভ
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ খামেনির মৃত্যুকে পারিবারিক অভিভাবক হারানোর চেয়েও বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে তারা এই হামলার জন্য দায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া জনতার আবেগ এবং ক্ষোভের চিত্র তুলে ধরে আরশ রাহিমি নামের ৪০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, 'আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেব। আজ এখানে যারা সমবেত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ নেতার হত্যার বিচার চান। আমাদের নেতা নিজেই সবসময় বলে গেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রক্তের শত্রুতা রয়েছে। তাই আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনই ভালো হওয়ার নয়।'
দূর-দূরান্ত থেকে আসা শোকার্তরা
এই জাতীয় শোকের গভীরতা সাধারণ ইরানিদের কতটা স্পর্শ করেছে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের কথায়। ইরানের হামাদান প্রদেশ থেকে তেহরানে আসা হামিদ তেইমোরি নামের এক শোকার্ত ব্যক্তি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, 'আমি এক অদ্ভুত ও অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমার নিজের বাবা যখন মারা গিয়েছিলেন, তখনও আমি এতটা কাঁদিনি, যতটা কেঁদেছি আমাদের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের খবর শুনে।'
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে শাসন করা খামেনির এই জানাজাকে ইরান সরকার দেশের জনগণের আবেগ ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রদর্শন করতে চাইছে। একই সঙ্গে, মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতার এই আকস্মিক বিদায়কে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও চরম সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



