বিরোধী দলের চীফ হুইপের সময় চাওয়ায় সংসদে হাসির রোল
বিরোধী দলের চীফ হুইপের সময় চাওয়ায় সংসদে হাসি

সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধী দলের চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমি যে সময়টা পেয়েছি এটা বিরোধী দলের কোটা থেকে। আমি আশা করবো সরকারি দলের কোটা থেকে আমি আরও ১০ মিনিট পাবো। মাননীয় চিফ হুইপ এবং সংসদ নেতা নিশ্চয়ই এটাতে সম্মতি দেবেন।” তার এই কথায় সব সদস্যরা হেসে উঠেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “মাননীয় সদস্য আপনি আবেদন জানিয়েছিলেন এর মধ্যে ট্রেজারি বেঞ্চের যে চিফ উইফ আছেন উনি আমাকে জানিয়েছেন উনার সময় ২০ মিনিট বরাদ্দ ছিল সেখান থেকে পাঁচ মিনিট উনি কর্তন করে আপনাকে দিয়েছেন। তো আপনি পাঁচ মিনিটের মধ্যে দয়া করে শেষ করবেন।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পিকারের এই কথার পরে নাহিদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর থেকে আরও পাঁচ মিনিট আমি রিকোয়েস্ট করছি মাননীয় স্পিকার। আর যদি পাঁচ মিনিটে শেষ করতে পারি— কোনও সমস্যা নেই।” নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যের পরে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য সব সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পরে।

আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা, বললেন জামায়াত নেতা

সংসদ অধিবেশনে নিজের বক্তব্য রাখার সময় নিজেকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “আজকাল আমাদের খুব বেশি করে রাজাকার-আলবদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই যে আমরা এখানে বসে আছি আমরা তো রাজাকার ছিলাম না, আমরা তো আলবদর ছিলাম না। উই আর দি লিডারশিপ ইন জামায়াত ইসলাম। যদি আপনি সেভাবে মুক্তিযোদ্ধার কথা বলেন তাহলে আমিও একজন শিশু মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাড়ি বর্ডারে। বাড়িটা একটু বড় ছিল আমাদের। যারা মাইগ্রেট করতে ইন্ডিয়াতে তারা প্রথমে এসে আমাদের উঠানে আশ্রয় নিতো। আমারা তাদেরকে কিছু নাস্তা খাওয়াতাম। আর সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কিনা এটা পাহারা দিতাম। যখন সেনাবাহিনীরা টহল থেকে একটু দূরে থাকতো আমরা ওদেরকে গাইড করতাম যে তারা যেন ইন্ডিয়া পার হয়ে যেতে পারে।”

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যের পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ নিজের বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, “আমি আজ নতুন করে আবিস্কার করলাম আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শিশু মুক্তিযোদ্ধা। তাকে আমি স্বাগতম জানাই।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কথার পরে সরকারি দলের সদস্যরা হেসে উঠেন। টেবিল চাপড়ে সম্মতিও জানান।

প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ নয়

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সেই সম্পর্ক কখনোই দাসত্বের পর্যায়ে যেতে পারে না। বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, এটি কোনও ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’ নয়।”

চেয়ারটিতে বসলে মনে হয় যে আগুনের তপ্ত হিট আসছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের চেয়ারের বিষয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এই যে চেয়ারটা আপনি দেখছেন যেই চেয়ারে আমি এখানে বসছি আপনার সামনে মাননীয় স্পিকার, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি চেয়ার মাননীয় স্পিকার। এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম আসলে মাননীয় স্পিকার মোটেও আরামের না। এই চেয়ারটিতে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় যে আগুনের তপ্ত হিট আসছে।

এসময় সবাই হেসে উঠলে তিনি বলেন, “হাসার কিছু নেই, আমি যা ফিল করি আমি আপনাদেরকে তাই বলছি। মাননীয় স্পিকার এই চেয়ারের থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আপনার সামনে বক্তব্যে আমি হয়তো অনেক পপুলার কথা বলতে পারতাম যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে যে আমি সবসময় পপুলার কথা বলতে পারি না।”