সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের মনোনয়ন তালিকায় অনুপস্থিত হেভিওয়েট নেত্রীরা
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতদের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এই তালিকায় বেশ কিছু চমক থাকলেও, এতে অনুপস্থিত রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
হেভিওয়েট নেত্রীদের বাদ পড়ার ঘটনা
হেভিওয়েটদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ডা. আমেনা বেগম, যিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের নারী আসনে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তবে এবারের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা অনেকের জন্য বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে।
এছাড়া, জামায়াতের নির্বাচনী জোটের সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একাধিক হেভিওয়েট নেত্রীও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। সংরক্ষিত আসনে আলোচনায় থাকা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের নাম চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পাননি। এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেত্রী দিলশানা পারুল ও নুসরাত তাবাসসুমেরও জায়গা হয়নি এই তালিকায়, যা দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা
গতকাল প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় মোট ১৩ জন মনোনয়ন পেয়েছেন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আটজন ও এনসিপির দুজন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাগপা ও জুলাই শহীদ পরিবার থেকে একজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন পেয়েছেন।
মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন:
- জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নূরুন্নিসা সিদ্দীকা
- জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মারজিয়া বেগম
- ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবিকুন্নাহার মুন্নী
- মহিলা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু
- সিলেট মহানগর মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহফুজা হান্নান
- বগুড়া অঞ্চল মহিলা জামায়াতের পরিচালক সাজেদা সামাদ
- মহিলা জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি শামছুন্নাহার বেগম
- নারী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য মারজিয়া মমতাজ
- এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতু
- জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিম
- জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম
এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত পরিবর্তন ও নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার প্রবণতা প্রতিফলিত করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



