প্রচণ্ড কালবৈশাখীর কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৪ মে) রাত সাড়ে আটটা থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার পর থেকে পদ্মা নদীর অববাহিকায় দমকা ও ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত সাড়ে আটটায় ঝড়ের গতি বেড়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
যানবাহন ও যাত্রীরা আটকা
ফেরি চলাচল বন্ধের কারণে ঈদুল আজহার আগে ঘরমুখো মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়েছে। বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. সালাম হোসেন বলেন, ৩০টির মতো যাত্রীবাহী বাসসহ অর্ধশতাধিক বিভিন্ন যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। ঝড় শুরু হলে ফেরিগুলোকে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনে নিরাপদে নোঙর করে রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে আবার ফেরি চলাচল শুরু করা হবে।
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভিড়
রোববার দুপুরের পর থেকে রাজধানী ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষ গ্রামের দিকে ছুটতে শুরু করেছেন। বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে লঞ্চ ও ফেরিতে মানুষের ভিড় দেখা যায়। শেষ মুহূর্তে কোরবানির পশুবাহী হাট ধরতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা পশুবাহী গাড়ি ছুটছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে এসব মানুষ রাজধানীর গাবতলীর পশুর হাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাটে যাচ্ছেন। গত ৩৪ ঘণ্টায় ঘাট দিয়ে পশুবাহী প্রায় সাড়ে ৮০০ গাড়ি পাড়ি দিয়েছে।
পশুবাহী গাড়ি অগ্রাধিকার
বিআইডব্লিউটিসি ও ঘাটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোরবানির পশুবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ফেরিতে নদী পাড়ি দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঘাট এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে পশুবাহী ৫৪০টির মতো গাড়ি নদী পাড়ি দেয়। শনিবার রাত ১২টার পর থেকে রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় আরও ৩০০টি পশুবাহী গাড়ি পাড়ি দেয়। ঈদের এক দিন আগ পর্যন্ত এ ধরনের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
লঞ্চ ও ফেরি পরিষেবা
আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল আনোয়ার মিলন জানান, রোববার দুপুরের আগ পর্যন্ত যাত্রীর তেমন চাপ ছিল না। বেলা তিনটার পর থেকে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানী ছেড়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীরা ছুটির শুরুতে গ্রামের দিকে ছুটছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ২০টি লঞ্চ সার্বক্ষণিক সচল রয়েছে।
এদিকে যাত্রীসাধারণের পাশাপাশি যাত্রীবাহী যানবাহন এবং পশুবাহী গাড়ি দ্রুত পার করতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় মোট ১৭টি ফেরি চালু থাকার কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি ফেরি সাময়িক সময়ের জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় রাখায় রোববার বিকেল পর্যন্ত এই রুটে মোট ১৫টি ফেরি চলাচল করছে।
পরিসংখ্যান
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, শেষ মুহূর্তেও রাজধানীর দিকে কোরবানির পশুবাহী গাড়ি ছুটছে। ঈদের এক দিন আগ পর্যন্ত এ ধরনের পশুবাহী গাড়ি রাজধানীর দিকে ছুটতে পারে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যাত্রীবাহী ৩১৫টি বাস, ৭৬৩টি ট্রাক, ৯৪৭টি ছোট গাড়ি এবং ১৩৬টি মোটরসাইকেল পাড়ি দেয়। এর মধ্যে পশুবাহী ট্রাক ছিল ৫৪০টি। এছাড়া শনিবার রাত ১২টার পর থেকে রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত পশুবাহী ২৯৫টির মতো গাড়ি পাড়ি দেয়।



