পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ১৫% ঘুষের অভিযোগে ভিডিও ভাইরাল
পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের ১৫% ঘুষের ভিডিও ভাইরাল

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি ভিডিওতে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতিদের কাছে ঘুষ চাওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে কী দেখা গেছে?

সোমবার (২৪ মার্চ) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বাবুল চন্দ্র রায় তাঁর অফিসকক্ষে ফাইলপত্র নিয়ে বসে আছেন। সামনে কয়েকজন ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি রয়েছেন। কথোপকথনে পিআইও বলেন, ‘ওই মেম্বার সাহেব, আপনার ৮ টন গম না? ৪০ করে।’ সামনের ব্যক্তি বলেন, ‘না স্যার, ৩২ হাজার করে।’ ক্যালকুলেটর চেপে পিআইও বলেন, ‘তাহলে ৩২ ইন্টু ৮, ২ লাখ ৫৬ হাজার, ইন্টু ১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার টাকা আসে।’ সামনের ব্যক্তি কম করার অনুরোধ করলে পিআইও বলেন, ‘মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না।’

আরও প্রকল্পের হিসাব

ভিডিওতে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘স্যার, আমার একটা টিআর আছে সামান্য।’ পিআইও জানতে চান, ‘কত?’ ওই ব্যক্তি বলেন, ‘১ লাখ ৬২ হাজার।’ ক্যালকুলেটর চেপে পিআইও বলেন, ‘তাহলে ১ লাখ ৬২ ইন্টু ১৫ পারসেন্ট, ২৪ হাজার।’ ওই ব্যক্তি বলেন, ‘২৪ হাজার স্যার! আমরা তো সাড়ে তিন বছর পরিষদেই আসিনি। কাজ তো আমরা হান্ড্রেড পারসেন্ট করি, স্যার।’ পিআইও জবাব দেন, ‘শুনেন, আপনাদের আগে পরিষদে আসতে দেয় নাই, এর পর থেকে আপনারাও এখন আসতে দেবেন না, শোধবোধ।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউপি সদস্যের বক্তব্য

সেদিন পিআইওর সামনে থাকা দেবীগঞ্জ উপজেলার এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওই দিন আমরা ৮ থেকে ১০ জন পিআইও অফিসে ছিলাম। কে ভিডিও করেছে, বুঝতে পারিনি। এটা ৬ থেকে ৭ দিন আগের ঘটনা, তবে আমি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটা কাজ করেছি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু বিল দেয় না। শুধু ঘুরাচ্ছিলেন। পরে বিল পেয়েছি। আমার কাজ শতভাগ বুঝে নিয়েছেন। ওনাকে ১৫ পারসেন্ট দিলে কোথায় টাকা পাব? তবে কারও কাছে ৫ পারসেন্ট, কারও কাছে ৭ পারসেন্ট নিয়েছেন।’

পিআইওর বক্তব্য

ভিডিওর বিষয়ে বাবুল চন্দ্র রায় মুঠোফোনে বলেন, ‘আসলে আমরা অনেক সময় ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতিদের ভ্যাট-আইটি, মিস্ত্রি খরচসহ বিভিন্ন হিসাব করে দিই। অনেক সময় কেউ কেউ কাজ না করেই এখানে এসে ধরনা ধরেন। কোন সময় কে কীভাবে যে এমন ভিডিও করে ছেড়ে দিয়েছে, এটা তো আমি অবগত নই। আপনারা আমার বিষয়ে তদন্ত করে দেখেন, আমি কারও কাছে এভাবে ঘুষ চাই কি না।’

জেলা প্রশাসকের পদক্ষেপ

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন মুঠোফোনে বলেন, ‘ভিডিওটা আমরা দেখেছি। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’