পৃথক দুই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ সোমবার এই আদেশ দেন।
হাইকোর্টের জামিনের পটভূমি
এর আগে অধস্তন আদালতে বিফল হলে আশুলিয়া থানায় করা একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানায় করা একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক আবেদন করেন মমতাজ। শুনানি নিয়ে ১৫ জুন হাইকোর্ট রুল দিয়ে এই তিন মামলায় মমতাজকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন।
চেম্বার আদালতে শুনানি
এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে। এর মধ্যে আশুলিয়া থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গতকাল রোববার চেম্বার আদালতে তাঁর জামিন বহাল থাকে। আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজের জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক দুটি আবেদনের ওপর আজ চেম্বার আদালতে শুনানি হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন। মমতাজের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোসা. খায়রুন নেছা।
আইনজীবীদের বক্তব্য
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হত্যার অভিযোগে করা দুটি মামলায় মমতাজের জামিন স্থগিত করেছেন আদালত। একই সঙ্গে হাইকোর্টে এ–সংক্রান্ত রুল (জামিন প্রশ্নে) শুনানি করতে বলেছেন।
মমতাজের অন্যতম আইনজীবী মোসা. খায়রুন নেছা প্রথম আলোকে বলেন, কণ্ঠশিল্পী মমতাজের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে তাঁর জামিন বহাল রয়েছে। তবে ছয় মামলায় তাঁর জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
মমতাজের পরিচিতি ও গ্রেপ্তার
লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম একাধিকবার মানিকগঞ্জ–২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সংসদ সদস্য ছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার কয়েকটি থানায় হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।



