ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ২০১৬ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৯৬তম বারের মতো পিছিয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাসিতা ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ
ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আগামী ৯ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করে। প্রসিকিউশন কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে জাল সুইফট ট্রান্সফার নির্দেশের মাধ্যমে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়। চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইনে পাচার করা হয়, যেখানে স্থানীয় একটি নেটওয়ার্ক অর্থ পাচারে সহায়তা করেছিল বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করেন।
২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।
তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা
প্রায় এক দশক ধরে সিআইডি এই চাঞ্চল্যকর সাইবার চুরির তদন্ত করলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে ফেরত দিয়েছে। বাকি ৬৬.৪ মিলিয়ন ডলার এখনো উদ্ধার হয়নি।
আদালতের আইনি প্রক্রিয়া
২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে মামলা করে। ২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত ফিলিপাইনের ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলাটি খারিজ করে দেয়, কারণ আদালতের এখতিয়ার নেই বলে রায় দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, তারা উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন নিউইয়র্ক আদালতে নতুন মামলা দায়ের করেছে।



