পঞ্চগড়ে ইউএনওকে পথরোধ করে ঘুষ ফেরত চাওয়ার মামলা, গ্রেফতারে অভিযান
পঞ্চগড়ে ইউএনও পথরোধ মামলা, গ্রেফতারে অভিযান

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পথরোধ করে ‘ঘুষের টাকা’ ফেরত চেয়ে ফেসবুক লাইভ করা নারী ও অজ্ঞাতনামা আরও ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় এ মামলা করেন।

মামলার বিবরণ ও পুলিশের বক্তব্য

বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সাইম মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ইউএনওর পথরোধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে তাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লুৎফর রহমান বলেন, ‘ইউএনওর পথরোধ করে ফেসবুকে লাইভ করা ওই নারীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ছয় জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

ঘটনার বিবরণ

অভিযুক্ত রেহেনা বেগম (৩৭) তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাগুরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি টিকটক ও রিলস ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন। গত সোমবার দুপুরের পর তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু হেঁটে যাওয়ার সময় তার পথরোধ করেন রেহেনা বেগম। এ সময় তিনি ইংরেজিতে ‘Urmi Akter’ নামে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ শুরু করেন এবং ইউএনওর কাছে ‘ঘুষ হিসেবে’ দেওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত চান। ইউএনও তাকে চেনেন না বলে জানালে ওই নারী তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার টাকা ফেরত দাবি করেন। পরে ৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ওই লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নারীটির অভিযোগ ও ইউএনওর প্রতিক্রিয়া

একই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই নারী পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসকের কাছে ইউএনওর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশের চাকরি দেওয়ার কথা বলে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু তার কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও বলেছেন, ‘আমি ওই নারীকে চিনি না। এমনকি আমার দফতরে কখনও আসেননি ওই নারী। যে নারী অভিযোগ করার আগে ফেসবুক লাইভ করতে পারে, সে কোনও প্রমাণ ছাড়া আমাকে টাকা দিয়েছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে, সেটি অনেক আগেই বাতিল করা হয়েছিল। অভিযোগকারীর ছেলের নামে কোনও আবেদনও নেই।’

মানববন্ধন ও পরবর্তী অবস্থা

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার ইউএনওর পক্ষে তেঁতুলিয়ায় দুই দফা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের’ ব্যানারে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা শহরের তেঁতুলতলায় ‘উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ও সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধন থেকে ইউএনওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে ওই নারীসহ ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এসব ঘটনার পর রেহেনা বেগম অভিযোগ করেন হুমকি-ধমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না।