ফুটবলে ৮৬ মিনিটের অভিশাপ: আফ্রিকান দলদের জন্য দুঃস্বপ্নের পরিণতি
ফুটবলে ৮৬ মিনিটের অভিশাপ: আফ্রিকান দলদের দুঃস্বপ্ন

আহ! ফুটবল বুঝি এতই নির্মম হয়। তবে আফ্রিকানদের কেন এমন পরিণতি? ফুটবল বিধাতা মাঝে মাঝে এমন কিছু চিত্রনাট্য লেখেন, যা দেখে মনে হয় মাঠের এগারোজন নয়, আড়ালে বসে খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করছে কোনো এক জাদুকরি সংখ্যা বা অদৃশ্য নিয়তি। কোনো কোনো ‘বিশেষ দিন’ বা ‘মিনিট’ কারও জন্য রূপকথা নিয়ে আসে, আবার কারও জন্য তা হয়ে ওঠে আজীবন তাড়া করে বেড়ানো এক দুঃস্বপ্ন। এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আফ্রিকান দলগুলোর ওপর যেন ভর করেছে তেমনই এক ‘৮৬ মিনিটের অভিশাপ’।

আইভরিকোস্টের স্বপ্নভঙ্গ

দুই দিনের মধ্যে একই পর্বে তিনটি ভিন্ন ম্যাচে ঘটে গেল অবিশ্বাস্য এক কাকতালীয় কাণ্ড। গত মঙ্গলবার আইভরিকোস্ট যখন ১–১ গোলে ড্র করে নরওয়েকে চেপে ধরেছিল, ঠিক তখনই যেন নেমে আসে সেই অভিশাপ। ঘড়ির কাঁটা ৮৬ মিনিটে ছুঁতেই আর্লিং হলান্ডের উদ্‌যাপন; নরওয়ে এগিয়ে যায় ২–১ গোলে। আর আইভরিকোস্টের স্বপ্নটাও এক নিমেষে হয়ে যায় ধূলিসাৎ।

ডিআর কঙ্গোর পরাজয়

এখানেই গল্পের শেষ নয়। এর এক দিন পরই ডিআর কঙ্গো শেষ বত্রিশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ গোল করে ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে যায়। ৭৪ মিনিট পর্যন্ত তারাই ম্যাচে এগিয়ে ছিল। এরপর ৭৫ মিনিটে হ্যারি কেইন গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান। তখনো কঙ্গোর আশা শেষ হয়ে যায়নি। নতুন উদ্যমে আক্রমণের পসরা সাজায় মধ্য আফ্রিকার দেশটি। কিন্তু তাদেরও কপাল পুড়েছে সেই অভিশপ্ত ৮৬ মিনিটেই। কেইন ম্যাচের ৮৬ মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে কঙ্গোকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেনেগালের বড় ধাক্কা

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা বোধ হয় সেনেগালই খেয়েছে। গতকাল রাতে বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তারা যখন ম্যাচটা পকেটে পুরে ফেলার প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই যেন মাঠে হাজির ৮৬ মিনিটের ভূত। বেলজিয়ান তারকা রোমেলু লুকাকু ৮৬ মিনিটে গোল করে ব্যবধান কমান। লুকাকুর গোলের পর আবার গোল করে সমতা ফেরায় বেলজিয়াম। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। পরের দৃশ্যটা তো সবারই জানা। এক দিকে সেনেগালের হতাশা, অন্য পাশে বেলজিয়ামের জয়ের উচ্ছ্বাস।

দক্ষিণ আফ্রিকাও বাদ যায়নি

নিয়তির এই নিষ্ঠুর পরিহাস থেকে বাদ যায়নি দক্ষিণ আফ্রিকাও। শেষ ষোলোতে ওঠার ম্যাচে তারাও ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোল হজম করে বিদায় নেয়। ফুটবল মাঠে কৌশল, টিকিটাকা আর পাসিং নিখুঁত হলেও মাঝে মাঝে ঘড়ির কাঁটার একটা নির্দিষ্ট মিনিট যে পুরো একটা মহাদেশের ফুটবল–ভাগ্যকে এভাবে এক সুতোয় বেঁধে কাঁদাতে পারে; তা আসলেই এক রোমাঞ্চকর রহস্য।