সাংবাদিক আনিস আলমগীরের দুর্নীতি মামলায় জামিন মঞ্জুর, জড়িত সন্ত্রাস আইনের মামলাও
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের দুর্নীতি মামলায় জামিন মঞ্জুর

ঢাকার একটি আদালত বুধবার সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. ছবির ফয়েজ বিষয়টি শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

দুদকের মামলার পটভূমি

দুর্নীতি দমন কমিশন আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করে ১৫ জানুয়ারি। তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান ২৫ জানুয়ারি আনিসকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এরপর ২৮ জানুয়ারি আনিসকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সন্ত্রাস আইনের মামলায় গ্রেপ্তার

এর আগে, আনিস আলমগীরকে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর, তাকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শহরের উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা এই মামলাটি করেন আরিয়ান আহমেদ, যিনি জুলাই বিপ্লবী জোটের একজন সংগঠক বলে মনে করা হয়।

অন্যান্য অভিযুক্তরা

এই সন্ত্রাস আইনের মামলায় আনিস আলমগীর ছাড়াও অভিযুক্ত করা হয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং আরও দুইজনকে। অন্য অভিযুক্তরা হলেন ফ্যাশন মডেল মারিয়া কিসপাট্টা এবং উপস্থাপক ইমতু রতিশ ইমতিয়াজ। এই মামলাটি আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যা তার আইনি জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।

দুদকের মামলায় জামিন পাওয়ার পরও আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস আইনের মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে তার আইনি লড়াইয়ে কিছুটা স্বস্তি এলেও, মোট দুটি মামলার প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। আইনজীবীরা বলছেন, দুদকের মামলায় জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আনিস আলমগীর সাময়িকভাবে মুক্তি পেলেও, সন্ত্রাস আইনের মামলার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

এই ঘটনাটি সাংবাদিকতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে জটিল সম্পর্কের দিকে আলোকপাত করে। আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো এখনও আদালতে প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছে। দুদকের তদন্ত ও সন্ত্রাস আইনের মামলা—উভয় ক্ষেত্রেই আইনি লড়াই জারি থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।