শরীয়তপুরে সরকারি জমি দখল করে নির্মিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কার্যালয় উচ্ছেদ
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপির কার্যালয় উচ্ছেদ

শরীয়তপুরে সরকারি জমি দখল করে নির্মিত রাজনৈতিক দলের কার্যালয় উচ্ছেদ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের সুবচনী বাজারে সরকারি খাসজমি দখল করে নির্মিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুটি দলীয় কার্যালয় স্থানীয় প্রশাসন উচ্ছেদ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাফিস এলাহীর নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

উচ্ছেদ অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

উচ্ছেদের সময় প্রথমে শ্রমিকদের দিয়ে বিএনপির টিনশেড কার্যালয়টি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর একটি এক্সকাভেটরের সাহায্যে আওয়ামী লীগের একতলা পাকা ভবনটিও সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুদ্রকর ইউনিয়নের ১০৩ নম্বর চর লক্ষ্মীনারায়ণ মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমির ওপর সুবচনী বাজার অবস্থিত।

এই বাজারের একটি অংশ তোহা বাজার শ্রেণির জমি হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪০ বছর আগে ওই খাসজমির ২১২ নম্বর দাগে টিনের ঘরে আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। গত বছর একই এলাকায় টিন দিয়ে বিএনপির একটি কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও ভোগান্তি

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের ওই অংশে কৃষকেরা আগে কৃষিপণ্য বিক্রি করতেন। কিন্তু দলীয় কার্যালয় নির্মাণের কারণে তারা সেখানে বসতে পারছিলেন না। ফলে তাদের সড়কের ওপর বসে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছিল, যা যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান ঢালী বলেন, "প্রশাসন কোনো নোটিশ না দিয়েই বিএনপির কার্যালয় ভেঙে দিয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপের মুখে আওয়ামী লীগের কার্যালয়টিও ভেঙে ফেলা হয়। তবে ভাঙা নির্মাণসামগ্রী এখনো অপসারণ করা হয়নি, এতে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।"

প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

রুদ্রকর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, "কৃষিপণ্য বিক্রির জায়গা দখল করে দুটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। শিগগিরই ভাঙা নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হবে।"

এই উচ্ছেদ অভিযানটি শরীয়তপুরে সরকারি জমি দখল রোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, উচ্ছেদের পর বাজার এলাকাটি পুনরায় কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।