ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার গুঞ্জন, প্রেসিডেন্ট পুত্র দাবি 'সুস্থ ও নিরাপদ'
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠলেও তিনি 'সুস্থ ও নিরাপদ' আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান। বুধবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের এই উপদেষ্টা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইউসুফ পেজেশকিয়ানের নিশ্চয়তা
ইউসুফ পেজেশকিয়ান জানান, মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন এমন খবর শোনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, খামেনি আল্লাহর রহমতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই গুঞ্জন মিথ্যা এবং নেতার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
উল্লেখ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এর আগে তাকে 'রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা' হিসেবে অভিহিত করলেও তার আঘাতের ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে বুধবার এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি তার পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে সচেতন আছেন এবং সীমিত যোগাযোগের সুযোগসম্পন্ন একটি অত্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা
এদিকে, মোজতবা খামেনির নিয়োগ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারবেন। ইরানের এই সিদ্ধান্তে তিনি 'খুশি নন' উল্লেখ করে এর আগে একে একটি 'বড় ভুল' হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, মার্কিন অনুমোদন ছাড়া এই নতুন নেতা 'বেশিদিন টিকবেন না'।
মোজতবা খামেনির পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের দীর্ঘকালীন শাসক আলী খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গত রবিবার মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হলেও জনসমক্ষে খুব একটা উপস্থিত না হওয়া এই নেতা এখন পর্যন্ত জাতির উদ্দেশে কোনও ভাষণ বা লিখিত বিবৃতি দেননি।
এই পরিস্থিতিতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
