সুন্দর ও তারুণ্যদীপ্ত ত্বক ধরে রাখতে প্রসাধনীর চেয়ে প্রাণখোলা হাসি অনেক বেশি কার্যকর। কারণ প্রাণখোলা হাসি আপনার মুখের পেশিগুলোকে প্রাকৃতিক উপায়ে টান টান করে রাখে এবং ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়, যা বয়সের ছাপ ও বলিরেখা পড়তে দেয় না।
হাসি কেন তারুণ্যের চাবিকাঠি?
বয়স বাড়লে বার্ধক্য আসবেই। তবে সেই বার্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখার জন্যই রয়েছে নানা কৌশল। রয়েছে রূপচর্চার নানা পন্থা, অ্যান্টি-এজিং ক্রিম। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে— শুধু রূপচর্চা নয়, রূপ ধরে রাখার চাবিকাঠি হতে পারে একগাল মিষ্টি হাসি।
হাসি ও মানসিক চাপ
হাসি কমাতে পারে মানসিক চাপ। হাসি মন ভালো রাখতে পারে। এমনকি মন খুশি করা হরমোন নিঃসরণের কারণও হতে পারে সেই হাসি। আর সেই হাসির কারণেই তারুণ্য ধরে রাখার উপায় হতে পারে প্রাণখোলা হাসি।
হাসি ও মুখের গঠন
হাসির সঙ্গে মুখের গড়নেরও সম্পর্ক থাকে। বয়সকালে যখন চোয়ালের হাড় ক্ষয়ে যায়, দাঁত ভেঙে যায়; তখন মুখের গড়নও খানিক পাল্টে যায়। হাড় ক্ষয়ে গেলে মুখের চামড়াও আলগা হতে শুরু করে। হাসি সুন্দর করার জন্যই খেয়াল রাখা দরকার দাঁতেরও। নিয়ম করে দুই বেলা দাঁত মাজা, খাওয়ার পর কুলকুচি করে মুখ ধোয়া জরুরি। কারণ ভিটামিন এ, সি ও ক্যালশিয়াম যুক্ত খাবারও দাঁত ভালো রাখতে সাহায্য করে।
হাসির শারীরিক উপকারিতা
নির্মল হাসি যেমন মুখে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে, ঠিক তেমনই হাসির সঙ্গে স্নায়ুর যোগও রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক—
- প্রথমত: যখন কেউ অনাবিলভাবে হাসি দেন, তখন মুখের পেশি টান টান হয়ে ওঠে। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। কোনো অস্ত্রোপচার, দামি ক্রিম ছাড়াই মুখের পেশি সতেজ হয়ে ওঠে। মুখ দেখায় অনেক বেশি সুন্দর।
- দ্বিতীয়ত: মানসিক চাপের কারণে কপাল কুঁচকে থাকে, বলিরেখা পড়ে। চিন্তা-ভাবনার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত হয়, হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। আবার কেউ যদি মন খুলে হাসেন, মস্তিষ্কে এন্ডরফিন, সেরোটোনিনের মতো 'হ্যাপি হরমোন' বা সুখী হরমোনের নিঃসরণ বেশি হয়। স্ট্রেস হরমোন বলে পরিচিত কর্টিসলের নিঃসরণ কমে। ফলে হাসলে মানসিক চাপমুক্ত থাকা যায়। তার প্রতিফলন হয় চোখেমুখেও।
- তৃতীয়ত: ত্বকের অন্যতম উপাদান হলো— কোলাজেন নামক প্রোটিন। আপনি হাসলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, পেশির ব্যায়াম হয়। ফলে কোলাজেনের নিঃসরণ ঠিক থাকে, ত্বক সতেজ ও সুন্দর দেখায়। এ ছাড়া হাসলে মন ভালো থাকে। ফলে রক্তচাপ বশে থাকে। মন ফুরফুরে থাকায় শরীরও ভালো থাকে। তার প্রতিফলন দেখা যায় মুখেও।
তাই সুন্দর ও তারুণ্যদীপ্ত ত্বকের জন্য শুধু বাইরের প্রসাধনী নয়, ভেতর থেকে প্রাণখোলা হাসি চর্চা করুন। এটি আপনার তারুণ্য ধরে রাখার সহজ ও কার্যকর উপায়।



