ফারইস্ট টাওয়ার-২-এ ১৩ কোটি টাকা আত্মসাত: সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ফারইস্ট টাওয়ার-২-এ ১৩ কোটি টাকা আত্মসাত: দুদকের মামলা

ফারইস্ট টাওয়ার-২-এ ১৩ কোটি টাকা আত্মসাত: সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফারইস্ট টাওয়ার-২-এর সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের নামে ভুয়া কার্যাদেশ ও জাল বিল ভাউচার তৈরি করে ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযোগ ও আইনি ধারা

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইনি পদক্ষেপ দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্দেশ করে।

আসামিদের তালিকা

মামলার আসামিরা হলেন:

  • ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম
  • সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. হেমায়েত উল্যাহ
  • সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও কোম্পানি সেক্রেটারি সৈয়দ আব্দুল আজিজ
  • সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এবং বিনিয়োগ ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আমীর মোহাম্মদ ইব্রাহীম
  • সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যাংকিং শাখা প্রধান শেখ আব্দুর রাজ্জাক
  • সাবেক হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স মো. কামাল হোসেন হাওলাদার

অভিযোগের বিবরণ

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ সালে ফারইস্ট টাওয়ার-২, ৩৬ তোপখানা রোড, ঢাকায় অবস্থিত কোম্পানির ভবনের সাপ্লাই ও কনস্ট্রাকশন সংক্রান্ত সিভিল ও ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল রেট্রোফিটিং কাজের নামে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিই) অগ্রিম অর্থ প্রদানের জন্য ভুয়া কার্যাদেশ জারি করা হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট কমিটির সভার এজেন্ডায় এ ধরনের অগ্রিম প্রদানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং অনুমোদিত রেজুলেশনেও কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

দুদক জানায়, পরবর্তীতে জাল আবেদনপত্র ও বিল ভাউচার তৈরি করে মোট ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার টাকার ১৬টি চেক ইস্যু করা হয়। এসব চেকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করে একটি অংশ দিয়ে ফারইস্ট ইসলামী প্রোপার্টিজ লিমিটেডের নামে পূর্বে জালিয়াতির মাধ্যমে গৃহীত ঋণ সমন্বয় করা হয় এবং বাকি অর্থ নগদে উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়।

তদন্তের ফলাফল

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ভাউচারে কোনো অনুমোদনকারী বা নিরীক্ষা-সংক্রান্ত স্বাক্ষর ছিল না এবং ব্যয়ের পক্ষে কোনো বৈধ সাপোর্টিং ডকুমেন্টও পাওয়া যায়নি। দুদক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত এ অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছেন।

তদন্তকালে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দুদক জানিয়েছে। এই মামলা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।