যমুনা ব্যাংকের বরখাস্ত ম্যানেজারের স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা: ৭৮ লাখ টাকা অসাধু সম্পদ
বগুড়ায় যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের বরখাস্ত সাবেক ব্যবস্থাপকের স্ত্রী নাজিয়া জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, তিনি জ্ঞাত-আয়ের উৎসবহির্ভূতভাবে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করেছেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান সম্প্রতি এই মামলা করেছেন। সোমবার বিকালে দুদক কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাজিয়া জাহান (৪০) যমুনা ব্যাংক লিমিটেড বগুড়া শাখার বরখাস্ত সাবেক ব্যবস্থাপক সাওগাত আরমানের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুদকের প্রধান কার্যালয় মামলা করার নির্দেশ দেয়।
নাজিয়া জাহান ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে তার সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। অনুসন্ধানে তার নামে ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যমানের স্থাবর সম্পদ এবং ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬১ টাকা মূল্যমানের অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় এক কোটি নয় লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা।
তথ্য গোপন ও মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগ
দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে নাজিয়া জাহান ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা প্রদান করে তিনি দুদক আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, তার নামে মোট ১ কোটি ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তিনি ঋণ বা দায়ের স্বপক্ষে কোনো রেকর্ডপত্র প্রদর্শন করতে পারেননি। ব্যাংকিং চ্যানেল দ্বারা সমর্থিত না হওয়ায় তার নিট সম্পদের মূল্য এক কোটি, ৯ লাখ ৯১ হাজার ২৬১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আয় ও ব্যয়ের হিসাব
যাচাইকালে নাজিয়া জাহানের পারিবারিক ব্যয় পাওয়া যায় মোট পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফলে পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৬১ হাজার ২৬১ টাকা। আয়কর নথি পর্যালোচনায় তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩৭ লাখ ৪৩ হাজার ১২৪ টাকা।
সুতরাং, নাজিয়া জাহান জ্ঞাত-আয়ের উৎসবহির্ভূত ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ১৩৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ-দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
দুদক জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান সোমবার বিকালে জানান, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি নিজ কার্যালয়ে আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করার পর তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল ও বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
এই মামলা দুর্নীতি দমনে দুদকের সক্রিয় ভূমিকার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অসাধু কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার এই ঘটনা জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
