ইউনিক গ্রুপের এমডি নূর আলীর বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা
ইউনিক গ্রুপের এমডি নূর আলীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা

ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূর আলী ও তাঁর মালিকানাধীন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে ১১৫ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ

জসীম উদ্দিন খান বলেন, মামলায় ঢাকার বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে ‘বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং’ প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা মানি লন্ডারিং করেছেন।

চুক্তি ভঙ্গ ও অনিয়ম

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে। তারা অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে এবং সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল ‘শেরাটন’ প্রতিষ্ঠা করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাঁটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা ঝুঁকি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। এতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় উড়োজাহাজ ওঠা–নামায় ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থ লেনদেন ও তদন্ত

সিআইডির মতে, অনুমোদনহীন ওই ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে আসামিরা অবৈধভাবে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা আয় করেছেন। পরে তা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলাকালে বেদখল করা সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর লন্ডার করা অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ পরিচালনা করছে। সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করার স্বার্থে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী মামলা

গত বছরের সেপ্টেম্বরে নূর আলীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করে সিআইডি। এই মামলায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে সংঘবদ্ধ প্রতারণার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।