ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি
ঘুষ কেলেঙ্কারিতে মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী বদলি

ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেনকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মোশারফ হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে রাজবাড়ী পৌরসভায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একাধিক সংবাদের পর, যেখানে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছিল।

অভিযোগের বিবরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেনের বিরুদ্ধে দুজন ঠিকাদার পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ঘুষ ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী কোনো কাজ করেন না। এছাড়া, চাহিদামাফিক ঘুষ না পেয়ে তিনি একজন ঠিকাদারের কার্যাদেশ ছিঁড়ে ফেলে ফাইল ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে সর্বশেষ ৩০ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে ‘নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষের নতুন অভিযোগ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে এসে অভিযোগকারী, ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে মো. মোশারফ হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে শাহাদৎ হোসেনকে রাজবাড়ী পৌরসভায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে ৩০ এপ্রিল বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য

নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন বদলি সংক্রান্ত আদেশের কপি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, পত্র-পত্রিকায় পৌরসভার বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে এবং গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি পৌরসভায় এসে তদন্ত করে গেছেন। তবে, তিনি দাবি করেন যে বদলির আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি এবং এটি একটি নিয়মিত বদলির আদেশ।

অন্যদিকে, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক নাজমুল হাসান বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু কবে, কোথায় এবং কিভাবে তদন্ত হয়েছে তা তার জানা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলির আদেশের অফিসিয়াল কপি তিনি পাননি, তবে বদলি করা হয়েছে মর্মে তিনি জানতে পেরেছেন।

এই ঘটনাটি স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছে। ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একজন কর্মকর্তার বদলি প্রশাসনিক পদক্ষেপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিফলন ঘটায়।