জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত পলাতক
জাবিতে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত পলাতক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এক ব্যক্তিকে ওই এলাকায় দেখা গেছে। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

ঘটনার বিবরণ

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানান, রাত ১১টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করে। একপর্যায়ে পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষার্থীর কাছাকাছি আসে। কাপড় দিয়ে ছাত্রীর গলা পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চিৎকার দিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে থাকেন। এর পাশের ফজিলাতুন্নেছা হলের সামনের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী যাচ্ছিলেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে ছাত্রীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় ওই শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে জঙ্গল থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী জানান, অপরিচিত এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও তদন্ত

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী চিকিৎসাকেন্দ্রে আসলে আমরা তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিই।’ প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতের পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। পরে তার সহযোগিতায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্ত ধর্ষণচেষ্টাকারীকে খুঁজে বের করা হয়। এ সময় নিরাপত্তা কার্যাযালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে এ ঘটনায় দ্রুত দোষীকে শনাক্ত করে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রক্টরের বক্তব্য

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি। ভুক্তভোগীর সহযোগিতায় আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে বের করেছি। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। আমরা কোনও না কোনও ফুটেজ দেখে তার পরিষ্কার ছবি পাবো। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতাও চাইবো। যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’