টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ১৫ নম্বর জামতলী ও ১১ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন।
নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন, ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। এছাড়া ১১ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত হয়েছেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।
ঘটনার বিবরণ
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘খবর পেয়ে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। আহত দুজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ১১ নম্বর ক্যাম্পে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি, তার স্ত্রী ও ছেলে নিহত হন। আহত হন আরও দুজন। এরপর রাত প্রায় ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরও একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে উম্মে হাবিবা, তার বোন তানজিনা আক্তার, মোহাম্মদ রিহান ও হারুনুর রশিদ নিহত হন। আহত হন আরও একজন।
ঝুঁকির মুখে লাখো মানুষ
উখিয়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মো. জোবাইর বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিতে ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। ক্যাম্পে বসবাসকারী লাখো মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অধিকাংশ পরিবার পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাস করায় প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’
প্রশাসনের পদক্ষেপ
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।



