মেহেরপুরের গাংনীতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা পণ্ড, উত্তেজনায় পাল্টাপাল্টি মিছিল
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় হট্টগোল ও পণ্ড হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে গাংনী শহরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে সন্ধ্যায় পাল্টা মিছিল করেন বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সভায় হট্টগোল ও মিছিলকারীদের অনুপ্রবেশ
আজ সকাল ১০টার দিকে গাংনী উপজেলা পরিষদ হলরুমে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শুরু হয়। সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হুদা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এবং বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে বেলা ১১টার দিকে জামায়াত নেতা কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলা ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সভা সূত্রে জানা গেছে, সভা চলাকালে হঠাৎ ১৫-২০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে মিছিলকারীরা হলরুমের ভেতরে ঢুকে পড়লে হট্টগোল শুরু হয় এবং সভা পণ্ড হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দিলে মিছিলকারীরা পালিয়ে যান।
জামায়াত ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি মিছিল
ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল চারটার দিকে গাংনী শহরে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল বের করেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামানের বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। জামায়াতের মিছিলে আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে সন্ধ্যায় শহরে পাল্টা মিছিল বের করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
মিছিল শেষে বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সমাবেশে আসাদুজ্জামান বলেন, লাঠিসোঁটা নিয়ে যারা শহরে মহড়া দিয়েছে এবং বিএনপি নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়েছে, তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পুলিশের অতিরিক্ত মোতায়েন ও নিয়ন্ত্রণ
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার দাস বলেন, দুপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা আশ্বস্ত করলেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
