তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি: নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা ও অর্থনীতি পুনর্গঠন
তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি: নিরাপত্তা ও অর্থনীতি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করলে দেশে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করাই হবে তার প্রথম কাজ, এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বৃহস্পতিবার হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

নেতৃত্ব ও প্রত্যয়

লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরা ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির সামনে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও বড় ম্যান্ডেট আশা করছি। নিজস্ব সরকার গঠনের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত আসন থাকবে।’ জোট সরকারের প্রয়োজনীয়তা তিনি আপাতত দেখছেন না বলেও জানান, যা তার স্বাধীন নেতৃত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ

১৭০ কোটি মানুষের এই দেশে আগামী দিনগুলো অত্যন্ত কঠিন হবে বলে সতর্ক করেছেন তারেক রহমান। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন যে, মেগা প্রকল্পের নামে দেশে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেও দেশের সাধারণ মানুষ রিক্ত হয়েছে, যা অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

অগ্রাধিকার ও কর্মসংস্থান

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী এই দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করাকে তার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশে বিপুল সংখ্যক বেকার। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে।’ বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সামাজিক উন্নয়নের দিকে তার মনোযোগ নির্দেশ করে।

বিদেশনীতি ও সম্পর্ক

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বর্তমানে শীতল সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার দেশের মানুষের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থই সবার আগে।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা অবশ্যই আমাদের চারপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত একটি সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চাই।’ এই মন্তব্য তার কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

রাজনৈতিক দমন ও আইন

বিগত সরকারের দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করলেও তারেক রহমান আইন করে কোনও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কেউ যদি কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হতে হবে।’ এই বক্তব্য তার আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।

পারিবারিক উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরা তারেক রহমান নিজের বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে পরিমিত স্বরে বলেন, ‘তারা তাদের মতো ছিলেন, আমি আমার মতো। তবে আমি তাদের চেয়েও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’ এই মন্তব্য তার স্বাধীন পরিচয় গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা এবং পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকারকে সম্মান জানানোর সংকল্পকে তুলে ধরে।