জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো তার সিনেমার চরিত্র নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি জানান, বাণিজ্যিক সিনেমার 'লার্জার দ্যান লাইফ' চরিত্রের চেয়ে সাধারণ মানুষের চরিত্র বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে তার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা।
সাধারণ মানুষের গল্প বলার কারণ
আফরান নিশো বলেন, 'অসাধারণ নায়কোচিত চরিত্র যে আমার ভালো লাগে না, তা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের শ্রম ও গণমানুষের গল্প বলার দায়বদ্ধতা থেকে আমি সাধারণ মানুষকে বেছে নিই।' তিনি মনে করেন, সাধারণ চরিত্রগুলোকে বড় পর্দায় ফুটিয়ে তোলা একটি ভালো অনুশীলন। 'সুড়ঙ্গ', 'দাগি' ও 'দম'—প্রতিটি সিনেমার চরিত্রই সাধারণ মানুষ, যারা একই সূত্রে গাঁথা।
'দম' সিনেমার শুটিং: এক মিরাকল
নিশো 'দম' সিনেমার শুটিংকে 'মিরাকল' বলে অভিহিত করেন। প্রচণ্ড ঠান্ডায় শুটিং করতে হয়েছে, দলের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার নিজের এক লেয়ারের বেশি পোশাক পরার সুযোগ ছিল না। তবে টিমওয়ার্ক ও ভালোবাসার জোরে সব প্রতিকূলতা জয় করেছেন তারা।
প্রচারমাধ্যমে অনাগ্রহ
ছবি মুক্তির আগে সাক্ষাৎকার বা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে নিশো বলেন, 'সাক্ষাৎকারে অনেক সময় উপদেশমূলক কথা বলতে হয়, যা নিজের কাছে আংশিক মিথ্যে মনে হয়।' তিনি দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি হলের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেই বেশি পছন্দ করেন।
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার সঞ্চালনা
টানা দুইবার এই অনুষ্ঠান সঞ্চালনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নিশো বলেন, 'উপস্থাপনা আগে ভয় পেতাম, এখন উপভোগ করি।' তিনি মন্তব্য করেন, ছোট পর্দা বা বড় পর্দার বিভেদ এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়; দর্শক এখন অনেক বেশি পরিপক্ব ও বুদ্ধিমান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সব ধরনের সিনেমা করার ইচ্ছা থাকলেও নিশো গল্পনির্ভর কাজকে অগ্রাধিকার দিতে চান। তিনি বলেন, 'অ্যাকশনধর্মী কাজে স্টাইলিশ হওয়ার প্রেশার থাকে, যা গল্পের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে কোনো কিছুরই বিরোধী নই।'
হুমায়ুন ফরীদিকে উৎসর্গের কারণ
নিশো জানান, হুমায়ুন ফরীদি তার কাছে 'গুরু' ও 'উইকিপিডিয়া' ছিলেন। তিনি ফরীদির জ্ঞান ও জীবনবোধের প্রেমে পড়েছিলেন। ফরীদি সেভাবে পুরস্কৃত না হওয়ায় আক্ষেপ থেকে তিনি নিজের প্রতিটি পুরস্কার তাঁকে উৎসর্গ করেন, যা এক ধরনের প্রতিবাদ।



