বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বহিষ্কার: ভোট না দিলে ঘরবাড়ি পোড়ানোর হুমকির পরিণতি
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) সংসদীয় আসনে ভোট না দিলে ঘরবাড়ি পোড়ানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি তার জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কার করেছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
ঘরবাড়ি পোড়ানোর হুমকি ও ভাইরাল ভিডিও
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দীনকে ভোট না দিলে বাড়িঘর পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার হুমকি দেন। তার এই বক্তব্য একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভিডিওতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে আর আপনারা যদি অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। ঘরবাড়ি পোড়াইয়া ছারখার করে দেব। আমি কিন্তু কথা পরিষ্কার করে বলতেছি। মনে কইরেন না আমি ভয় দেখাচ্ছি। আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি। আমার কথা রেকর্ড করে বলে দিতে পারেন। ফেসবুকে ছেড়ে দিতে পারেন। আমার কোনো অসুবিধা নাই। আমি এটা মিন করতেছি।’
বিএনপির কঠোর সিদ্ধান্ত
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থি বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ইতিপূর্বে ঋণখেলাপির অভিযোগে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারিয়েছিলেন। এবার তার বিতর্কিত হুমকি দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই বহিষ্কার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য নেতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। কুমিল্লা-৪ আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগে এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর হুমকির ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হওয়ায় তা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দলটি সম্ভবত এই ইস্যু থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে, যা তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে আরও জোরদার করে তুলেছে।
