বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে কর্মব্যস্ত মঙ্গলবার
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে দলের সংগঠনমূলক ও সমন্বয়মূলক কাজে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। সারাদিন ধরে তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং প্রার্থীদের সাথে ফোনালাপ করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সারাদেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
দলের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, তারেক রহমান মঙ্গলবার দুপুরের দিকে গুলশান অফিসে পৌঁছান এবং সেখানে তিনি দলের সংগঠনমূলক কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি বলেন, "বিএনপি চেয়ারম্যান সকাল থেকেই সারাদেশের প্রার্থীদের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য নিচ্ছেন এবং সরাসরি দলের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলছেন। তিনি সারাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।"
রুমন আরও উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান সারাদিন ধরে ব্যস্ত ছিলেন এবং দলের নির্বাচনী বার্তাগুলো এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সারাদেশে পাঠানো হয়েছে।
বিদেশি সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
সন্ধ্যায় তারেক রহমান বনানীর একটি হোটেলে বিদেশি সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এই সভায় তিনি দলের নির্বাচনী অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
তেরোতম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান
তারেক রহমান তেরোতম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক "ধানশীষ" ২৯১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়াও, দলটি মিত্র দলগুলোর সাথে নয়টি আসনে আসন বণ্টনের চুক্তি করেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছিল ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা থেকে। এরপর তিনি সারাদেশে ব্যাপক প্রচারণা চালান:
- মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী
- নারায়ণগঞ্জের মৌচাক, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম
- সোনাগাজী, দাউদকান্দি, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও
- ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঢাকার উত্তরা
- রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুর, সিরাজগঞ্জ
- টাঙ্গাইল, বরিশাল, ফরিদপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর
- ঢাকার ১৪টি নির্বাচনী এলাকা
মোট নয় দিনে তিনি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪১টি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় সোমবার রাত ১১টার দিকে, যখন তিনি তার পিতামাতার কবর জিয়ারত করেন।
মঙ্গলবারের কর্মব্যস্ততা দেখিয়ে দেয় যে, নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হলেও দলীয় নেতৃত্ব এখনও সম্পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে এবং ভোটের আগের দিনগুলোতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির চেষ্টা করছে।
