লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কাঁদলেন মো. জাহিদ নামে এক ছাত্রদল নেতা। একইসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের ১৮ সদস্যের নতুন কমিটি গঠনের পর ফেসবুকে লাইভে এসে কেঁদেছেন তিনি। তার কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পদ প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় কান্না
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মো. জাহিদ জেলা ছাত্রদলের আগের কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এবারও জেলা শাখার নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের একটি পাবেন—এমনটি প্রত্যাশা ছিল তার। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই নতুন কমিটি গঠনের পর ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করেন।
নতুন কমিটি গঠন
শনিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের ১৮ সদস্যের নতুন কমিটির অনুমোদন হয়। এতে আবুল বারাকাতকে আহ্বায়ক, আবদুল্লাহ আল খালেদকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও হাসিবুর রহমানকে সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়। ৩০ দিনের মধ্যে আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন।
ক্ষোভ ও কান্না
কমিটি গঠনের পর নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন আগের কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মো. জাহিদ। তিনি দাবি করেন, দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পরও তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। নতুন কমিটিতে প্রকৃত কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ফেসবুক লাইভে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এ সময় দলের নেতাদের উদ্দেশেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাহিদ। তিনি বলেন, ‘জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে যে কালো অধ্যায় রচনা করেছেন, কী করে ভুলবো। আজ জাহিদকে আপনারা ভুলে গেছেন।’
মো. জাহিদ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজপথে থেকেছি, দলের জন্য সময়-শ্রম দিয়েছি। কিন্তু নতুন কমিটিতে আমাকে কোনও স্থান দেওয়া হয়নি। এতে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছি। আমি জানি না, আমার অপরাধ কী ছিল। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
পূর্বের কমিটি ও বর্তমান পরিস্থিতি
২০১৮ সালে হাসান মাহমুদকে সভাপতি এবং আবদুল্লাহ আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৭ বছর পর নতুন কমিটি আসলেও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটল জাহিদের এই ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে।
সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



