জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বিএনপির শ্রমিক সংগঠন, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে একটি বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করছে, যা মে দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছেন, যা বিকেল ৩টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হবে।
দলটি লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আশা করছে। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করবেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শ্রমিক নেতারাও বক্তৃতা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সমাবেশের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া, সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সাথে বেশ কয়েকটি বৈঠক করা হয়েছে। যদিও প্রতিকূল আবহাওয়া এবং রাতারাতি বৃষ্টির কারণে ঢাকার অনেক সড়ক জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, তবুও শুক্রবার সকাল থেকেই লোকজন ভেন্যুতে আসতে শুরু করেছেন। আয়োজকরা আশা করছেন, দিন যত এগোবে, ভিড় তত বাড়বে।
সমাবেশস্থলে একটি মোবাইল মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে নিরাপত্তাকর্মীরা এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। শ্রমিক দলের সূত্র অনুযায়ী, ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কটি সেদিন বন্ধ থাকবে এবং যানবাহন বিকল্প রুটে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। জরুরি পরিষেবা, বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারী দলীয় কর্মী ও সাধারণ জনগণের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্য শিবির এবং মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এটি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর সরকার গঠনের পর রাজধানীতে বিএনপির প্রথম বড় দলীয় অনুষ্ঠান।
ঢাকা ও আশপাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রমিক নেতারা মনে করছেন, এই অনুষ্ঠান শুধু শ্রমিক অধিকার ও কল্যাণের ওপরই আলোকপাত করবে না, বরং দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মনোবল বাড়াতেও সাহায্য করবে।
বৃহস্পতিবার বিএনপির নয়া পল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস বা মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আশা প্রকাশ করেন যে, এই অনুষ্ঠানে ঢাকায় শ্রমিকদের এক বিশাল জোয়ার আসবে।
মে দিবস ১৮৮৬ সালে শিকাগোতে ন্যায্য মজুরি, শ্রমের মর্যাদা এবং আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে প্রাণ উৎসর্গকারী শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে দিবসটি শ্রমিক অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়।



