নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ, বিএনপি-জামায়াতে উত্তেজনা
নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ, উত্তেজনা

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে দুই যুবদল কর্মীর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষে শাকিল মাহমুদ নামে এক যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয়পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার পর উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ছোট শিবনারায়নপুর জনকল্যাণ নামে এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত যুবদল কর্মী শাকিল মাহমুদকে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষে আহত আলাউদ্দিন নামে আরেক বিএনপি নেতা বর্তমানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দ্বন্দ্বের পটভূমি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয়ানী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যুবদল কর্মী মাহফুজের বাবা মোহর আলি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও গত কয়েক বছর আগে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন তিনি জামায়াতের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন এবং তার ছেলে মাহফুজ বিএনপির প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন। সেদিন ভোটকেন্দ্রের সামনে মোহর আলীর সঙ্গে স্থানীয় যুবদল কর্মী ইমনের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে সেখানে মোহর আলীর ছেলে যুবদল কর্মী মাহফুজ তার বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে ইমনসহ অন্য যুবদল ও বিএনপির কর্মীরা মাহফুজকে মারধর করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষের ধারাবাহিকতা

এই দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার ছয়ানী ইউনিয়ন কৃষকদলের একটি অনুষ্ঠানে রামেশ্বরপুর থেকে ছয়ানী আসার পথে জনকল্যাণ এলাকায় ইমনের পথ গতিরোধ করে আটকায় মাহফুজ। এ সময় ইমনকে মাহফুজ মারধর করে। পরে ইমন বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানালে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপির কয়েক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান।

বিবৃতিমতে অভিযোগ

মাহফুজের বাবা মোহর আলী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আমি জামায়াতের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছি। সে সময় আমার ছেলে মাহফুজ বিএনপির প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছিল। যেহেতু সে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাই সে তার মন মতো প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছে এবং আমি আমার মন মতো প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছি। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের সামনে আমার সঙ্গে যুবদল কর্মী ইমনের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে আমার ছেলে মাহফুজ এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করে। এ সময় সেখানে থাকা অন্য বিএনপি ও যুবদলের নেতারা মাহফুজকে বেদম মারধর করে। সে সূত্র ধরেই গতকাল বিকালেও মাহফুজ ও ইমনের সঙ্গে ঝামেলা হয়। এটা তাদের দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়।

তিনি আরও বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনসহ বিএনপির ৫০-৬০ নেতাকর্মী হাতে রিভলভারসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে এসে আমার ছেলে যুবদল কর্মী মাহফুজকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় তারা মাহফুজকে ঘরে না পেয়ে আমার মেয়ে নাসরিন (২৫), ইতি (১৮) ও আমার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের গায়ে হাত তোলে। এক পর্যায়ে আমাদের বাড়ির ও আশপাশের এলাকার নারী-পুরুষ সবাই বেরিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে। এ সময় আলাউদ্দিন তার হাতে থাকা রিভলভার থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকলে তার ছোড়া গুলিতেই তার সঙ্গে আসা শাকিল নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়।

আহত বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন বলেন, গতকাল ছয়ানী বাজারে কৃষকদলের নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আমরা একটি কর্মসূচির আয়োজন করেছিলাম। সেখানে আসার পথে আমাদের যুবদল কর্মী ইমনকে মারধর করে স্থানীয় জামায়াত নেতা মোহর আলীর নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা। রাতে আবার আমাদের নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে তাদেরকে আটক করে মারধর ও গুলি করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গেলে আমার ওপরও হামলা করে তারা। তাদের ছোড়া গুলিতে শাকিল নামে এক নেতা গুরুতর আহত হয়।

আরমান নামের স্থানীয় এক জামায়াত কর্মী বলেন, ভোটের মাঠের একটি পুরাতন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের অভ্যন্তরীণ দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের রেশ ধরে গতকাল রাতে আমাদের এলাকায় এক প্রকার তাণ্ডব চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা নিজেদের ছোড়া গুলিতে নিজেরাই আহত হয়। এখন এটিকে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষ বলে তারা আবার প্রচার করছে।

ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা গায়ে পড়ে আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়া করছে। আমাদের নেতাকর্মীরা মিছিলে আসার পথে তাদের পথ রোধ করে তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।

পুলিশের অবস্থান

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।