ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এই গুপ্ত রাজনীতি দেশের মূল ধারার রাজনীতিকে বিষাক্ত ও কলুষিত করে তুলছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
গুপ্ত রাজনীতির সংজ্ঞা ও উদাহরণ
নয়ন বলেন, গুপ্ত রাজনীতি হলো অন্য পরিচয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের অবস্থান ছিল না। কিন্তু ২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীরা ছিল এবং তাদের কমিটিও ছিল।
ছদ্মবেশী শিবিরের ভূমিকা
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তারা এতদিন ছিল? অনেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে ছিল, কেউ ছাত্রলীগের কর্মী বা নেতা ছিল। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ছিল, আর সেই অপকর্মে ছদ্মবেশী শিবিরের লোকেরাও অংশ নিত বলে তিনি দাবি করেন। গুপ্ত শিবিরের ছাত্রদলের ওপর আক্রমণের মাত্রা সীমাহীন ছিল।
শিবিরের কমিটি প্রকাশের চ্যালেঞ্জ
নয়ন গুপ্ত শিবিরকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে তাদের কমিটিতে কারা ছিল তা প্রকাশ করুক। নাম প্রকাশ পেলে বোঝা যাবে তারা কোন সংগঠনের পরিচয়ে গুপ্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। কারণ এখনও ছাত্রদল, বামপন্থিসহ অন্যান্য সংগঠনে শিবিরের অনেকে ছদ্মবেশে আছে এবং দাপটের সঙ্গে বিরাজ করছে।
সাধারণ ছাত্রের ছদ্মবেশ
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলের উক্তি উল্লেখ করে নয়ন বলেন, 'মানুষ মাত্রই রাজনৈতিক জীব।' তাহলে যারা নিজেদের সাধারণ ছাত্র বলে দাবি করে, তারা আসলে শিবিরের লোক। শিবিরের নতুন ছদ্মবেশ হচ্ছে 'সাধারণ ছাত্র', যারা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে গুপ্ত রাজনীতি করছে।
পোস্টের শেষে নয়ন লেখেন, এখন চারিদিকে আওয়াজ উঠেছে: 'গুপ্ত যাদের অবস্থান, তাদের বাড়ি পাকিস্তান', 'গুপ্ত তোরা দেশ ছাড়, তোদের বাড়ি পাকিস্তান', '৭১-এর খুনি যারা, গুপ্ত চক্রান্তে লিপ্ত তারা'। যুবদলের এক ডাক, অপশক্তি নিপাত যাক!



