ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই রাজনৈতিক সহিংসতায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে হাতাহাতির সৃষ্টি হয়, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন কর্মী-সমর্থক রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (২৯ মে) রাত ৮টার দিকে উপজেলার শেখড়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে যাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হলেন—শহীদ বিশ্বাস (৪২), দানেফ (৪৫), শাহিন বিশ্বাস (৪০), বাবুল বিশ্বাস (৪২) এবং এনামুল বিশ্বাস (২৮)। আহত বাকি ৩ জনের নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিনের কোন্দলের জের
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং একই ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আব্দুস সালামের মধ্যে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গভীর কোন্দল ও বিরোধ চলে আসছিল। এই পুরোনো শত্রুতার জেরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে শেখড়া বাজারে উভয় নেতার সমর্থকেরা মুখোমুখি হলে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতা
একপর্যায়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই পক্ষের সমর্থকেরা লাঠিসোটা নিয়ে হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ৮ জন কমবেশি আহত হন।
আহতদের চিকিৎসা
সংঘর্ষের পর আহতদের মধ্যে ৪২ বছর বয়সী শহীদ বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও গুরুতর হওয়ায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে, বাকি আহতরা বড় ধরনের আইনি জটিলতা বা গ্রেপ্তার এড়াতে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে যার যার বাড়ি ফিরে গেছেন।
পুলিশের পদক্ষেপ
এই ঘটনার পর শেখড়া বাজার ও তার আশেপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প ও শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় বর্তমানে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।



