জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১-দলীয় জোটের দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ১১-দলীয় জোটের দেশব্যাপী বিক্ষোভ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১-দলীয় জোটের দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে। নওগাঁ, পঞ্চগড়, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নোয়াখালী, ভোলা, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পৃথকভাবে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

নওগাঁ ও পঞ্চগড়ে বিক্ষোভের ঢেউ

নওগাঁ জেলায় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মুক্তির মোড় মডেল মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য খন্দকার মো. আবদুর রাকিব প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এনসিপির নওগাঁ জেলা আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান চৌধুরী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির জেলা আহ্বায়ক কাজী আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

পঞ্চগড় জেলায় জজ আদালতের সামনে থেকে বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জামায়াতের পঞ্চগড় জেলা শাখার আমির ইকবাল হোসাইন ও সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন। এনসিপি ও জাগপার স্থানীয় নেতারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জে সরকারবিরোধী বক্তব্য

রাজবাড়ী জেলায় আজাদি ময়দানে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে আর তামাশা করবেন না। তা না হলে জনগণ মাঠে নামতে বাধ্য হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কিন্তু ৪৫ মিনিট সময় চেয়েছিল। না পেয়ে হেলিকপ্টারে পালিয়েছে। আপনারা কিন্তু সেই সময়ও পাবেন না।’ তিনি জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিকেলে সমাবেশের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাসস্ট্যান্ড থেকে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শহরের প্রধান ডাকঘরের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জামায়াতের জেলা শাখার আমির মাওলানা কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নায়েবে আমির আনোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

ফরিদপুর ও নোয়াখালীতে কঠোর হুঁশিয়ারি

ফরিদপুর শহরের প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি মুজিব সড়ক দিয়ে নীলটুলী মহল্লা হয়ে জনতা ব্যাংকের মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জেলা ১১-দলীয় জোটের আহ্বায়ক বদরুদ্দীন বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। আজ ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে গণরায় দিয়েছে। কিন্তু একটি অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই সরকার ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে।’ তিনি সরকারকে সতর্ক করেন।

নোয়াখালীর মাইজদীতে বিকেল সাড়ে চারটা থেকে জোটভুক্ত দলগুলোর খণ্ড মিছিল জেলা মডেল মসজিদ এলাকায় জড়ো হয়। সেখান থেকে বিকেল সোয়া পাঁচটায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর বাজার জামে মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার সভাপতিত্ব করেন।

ভোলা, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার ও চাঁদপুরে সমাবেশ

ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে বিকেল পাঁচটায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাটখেলা মাস্টার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। নেতারা শহরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন।

সাতক্ষীরা জেলা শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বিকেল চারটায় বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সমাবেশে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল খালেক বলেন, ‘দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। এই গণরায় নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।’ তিনি বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন।

কক্সবাজার শহরে কালুর দোকান চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে লালদিঘির পাড়ের পাবলিক হল মাঠে শেষ হয়। সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির নূর আহমদ আনোয়ারী বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে গণভোট বাতিলের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিকেলে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য বিলাল হোসেন মিয়াজী বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে দেশ সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হতে পারে।

সারা দেশে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিস, এলডিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার হুমকি দিয়েছেন।